মরক্কোর রাজধানী রাবাতে দেশটির শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী রিয়াদ মেজোর–এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, প্রযুক্তি ও শিল্পখাতের সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
মঙ্গলবার (১৯শে মে) বিকেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নত বিনিয়োগ পরিবেশের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়াতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বিনিময়ের প্রস্তাব দেন। জবাবে মরক্কোর শিল্পমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে পাঠাতে চায় মরক্কো।
বৈঠকে কৃষিখাতে বিদ্যমান সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ফসফেটের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা বাড়ানো গেলে ফসফেট আমদানির সরবরাহ ব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর হবে। এতে দেশের কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে।
এ সময় মরক্কোর বাজারে পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরে বাংলাদেশ। প্রতিমন্ত্রী জানান, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মরক্কোর বাজারে বাংলাদেশের পাটপণ্যের রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব।
দুই নেতা উদ্ভাবন, শিল্প প্রশিক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএর সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হলে বাংলাদেশের জন্য নতুন রপ্তানি বাজার তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আফ্রিকান অঞ্চলে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।