লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোঃ হাবীব উল্লাহ ১৩ই মে ত্রিপলিতে অবস্থিত ইসলামিক দাওয়াহ কলেজ পরিদর্শন করেছেন। সফরকালে তিনি কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করেন।
কলেজে পৌঁছালে প্রতিষ্ঠানের ডীন ড. আবু বকর মোহাম্মদ আবু সুওয়াইর রাষ্ট্রদূত ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। এসময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম), কলেজের সেক্রেটারি জেনারেল এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে কলেজের ডীন প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইসলামী সংস্কৃতি ও প্রকৃত ইসলামী আদর্শ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে দক্ষ গবেষক ও দাঈ তৈরির উদ্দেশ্যে কলেজটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। পাশাপাশি মুসলিম সমাজ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতেও প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও জানান, বিশ্বের শতাধিক দেশের শিক্ষার্থীরা এ কলেজে পড়াশোনা করেছে। বর্তমানে কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীও সেখানে অধ্যয়ন করছেন। কলেজটিতে আরবি ভাষা ও সাহিত্য, ইসলামি সংস্কৃতি ও সভ্যতা এবং কুরআনিক সায়েন্স বিষয়ে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এছাড়া অনারবি ভাষাভাষীদের জন্য আলাদা আরবি ভাষা ইনস্টিটিউট রয়েছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ স্কলারশিপ প্রদান করে। যাতায়াত, আবাসন, খাবার এবং বইপত্রসহ সব ধরনের ব্যয় প্রতিষ্ঠান বহন করে বলে জানান ডীন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি স্কলারশিপের সুযোগ তৈরি হবে।
রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোঃ হাবীব উল্লাহ কলেজটির শিক্ষা ও ইসলামী সংস্কৃতি প্রচারে অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি আসন ও বৃত্তির সুযোগ তৈরির অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে দূতাবাস প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বলেও আশ্বাস দেন।
এসময় তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রমে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
পরিদর্শনের এক পর্যায়ে রাষ্ট্রদূত বর্তমানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষার্থীরা কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরে কলেজের ডীন প্রতিনিধিদলকে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ঘুরে দেখান। লাইব্রেরিটিতে বিভিন্ন ভাষায় প্রায় ৩৬ হাজার বিষয়ের বিপুলসংখ্যক বই সংরক্ষিত রয়েছে।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।