রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ওআইসির সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকায় নিযুক্ত ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) সদস্যভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, মুসলিম বিশ্বের ঐক্য এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।

গত ১২ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ক্যাবিনেট বিভাগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায় ওআইসি হেডস অব মিশনের অনুরোধে সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ও ডিন অব ডিপ্লোমেটিক কোর ইউসুফ রামাদান।

বৈঠকে ওআইসি সদস্যদেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের জন্য শুভেচ্ছা ও সমর্থন প্রকাশ করেন তারা।

কূটনীতিকরা বলেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ওআইসির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য, সহযোগিতা ও উন্নয়ন জোরদারে বাংলাদেশের অবদান প্রশংসনীয় বলেও উল্লেখ করা হয়।

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রমাদান বলেন, বাংলাদেশের জনগণের পাশে ওআইসি সদস্যদেশগুলোর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সংহতি আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ওআইসির সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জন্য বড় মানবিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। সংকটের টেকসই সমাধানে মুসলিম বিশ্বের সমর্থন প্রয়োজন।

এ সময় তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার জন্যও ওআইসি সদস্যদেশগুলোর সমর্থন চান।

বৈঠকে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর রাজনৈতিক দর্শনের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়াতে সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

বৈঠকে ফিলিস্তিন, ব্রুনেই, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, মিশর, মালদ্বীপ, আলজেরিয়া, মালয়েশিয়া, কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও মরক্কোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া লিবিয়া, ইরান ও ইরাকের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সরাও অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *