বাংলাদেশে টেকসই অর্থায়ন ও সবুজ বিনিয়োগ নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে। উন্নয়ন, বেসরকারি খাত, নীতি নির্ধারক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে “সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স সামিট ২০২৬”। এতে দেশের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিবেশ, উদ্ভাবনী অর্থায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলি বলেন, উদীয়মান অর্থনীতিতে উদ্ভাবনী অর্থায়নকে এগিয়ে নেওয়া সুইজারল্যান্ডের অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রগুলোর একটি। তিনি বলেন, প্রভাবভিত্তিক ব্যবসা, ক্যাটালিটিক ফান্ড এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচিতে সুইজারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা দিয়ে আসছে।
রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলি বলেন, সরকারি লক্ষ্য ও বাজারভিত্তিক শৃঙ্খলার সমন্বয় করেই টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। তার মতে, এমন সম্মেলন বিভিন্ন অংশীজনকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসে। এতে অংশীদারত্ব শক্তিশালী হয়, নতুন ধারণার বিনিময় ঘটে এবং পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে আইনি নিরাপত্তা, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। এগুলো না থাকলে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সম্মেলনে ২০০-র বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। উন্নয়ন সংস্থা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, নীতি নির্ধারক, উদ্যোক্তা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন। তারা বাংলাদেশে টেকসই অর্থায়নের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনায় উঠে আসে, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ শিল্পায়ন এবং সামাজিক প্রভাবভিত্তিক বিনিয়োগে বাংলাদেশে নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক নীতি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়লে এই খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, টেকসই অর্থায়ন এখন শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়। এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তাই বাংলাদেশকে বৈশ্বিক টেকসই অর্থনীতির অংশ হতে হলে উদ্ভাবনী অর্থায়ন কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হবে।