অন্ধত্বের সুযোগে পৈত্রিক জমি দখল: টাঙ্গাইলে জাকির হোসেনের ন্যায়বিচারের আর্তি

টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোদালিয়া গ্রামের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোঃ জাকির হোসেন আজ এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি। দীর্ঘদিন ধরে অন্ধত্বের সঙ্গে লড়াই করা এই মানুষটির অভিযোগ—তার অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে শুকুর মাহমুদ নামে এক ব্যক্তি তার পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে বসে আছে।

জাকির হোসেন শুধু একজন সাধারণ মানুষ নন; তিনি নাট্যকার, অভিনেতা, নির্দেশক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে টাঙ্গাইলে সুপরিচিত। জীবনের বড় একটি সময় তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও সমাজসেবায় ব্যয় করেছেন। কিন্তু ২০১৩ সালে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত স্ট্রোকে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর থেকেই তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার।

এই অন্ধত্বই এখন তার জন্য সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শুকুর মাহমুদ তার পৈত্রিক জমিতে বসত গড়ে তোলে এবং দীর্ঘদিন ধরে দখল বজায় রেখেছে।

জমি সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে একাধিকবার টাঙ্গাইল পৌরসভার শরণাপন্ন হন জাকির হোসেন। প্রথমদিকে অভিযোগ রয়েছে—পৌরসভার সার্ভেয়াররা ঘুষ নিয়ে পরিমাপের কোনো লিখিত নথি না দিয়েই চলে যান।

পরবর্তীতে পুনরায় আবেদন ও দীর্ঘ চেষ্টার পর অবশেষে ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল জমি পরিমাপ সম্পন্ন হয়। ওই পরিমাপে জমির মালিকানা জাকির হোসেনের পক্ষে প্রমাণিত হয় বলে তিনি জানান।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ, পরিমাপের দিনও অভিযুক্ত শুকুর আহমেদ উপস্থিত না থেকে উল্টো হুমকি প্রদান করে এবং এখনো জোরপূর্বক জমি দখল করে আছে।

জাকির হোসেনের দাবি, জমি পরিমাপের জন্য তিনি একাধিকবার সরকারি ফি প্রদান করেছেন। এমনকি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদনও করেছেন। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তি অসুস্থতার ভুয়া সনদ দেখিয়ে বারবার পরিমাপ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করেছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন তার বৈধ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত রাখা হলে শুধু দখলমুক্ত করাই নয়, ক্ষতিপূরণ দাবিরও সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যদি প্রমাণ হয় যে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দখল বজায় রাখা হয়েছে, তাহলে আদালত বড় অংকের ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিতে পারেন।

একজন অন্ধ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সমাজসেবী ব্যক্তি—যিনি নিজে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আজ তিনিই নিজের সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে সংগ্রাম করছেন।

এই ঘটনা শুধু একটি জমির বিরোধ নয়, বরং প্রশ্ন উঠেছে— দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষায় প্রশাসন কতটা কার্যকর?

সংশ্লিষ্টদের মতে—

  • দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন
  • দখলদার শুকুর মাহমুদকে উচ্ছেদে আইনগত ব্যবস্থা জরুরি
  • ক্ষতিপূরণ আদায়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়া উচিত
  • দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা প্রয়োজন

জাকির হোসেনের এই লড়াই কেবল ব্যক্তিগত নয়; এটি দেশের অসংখ্য দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের ন্যায়বিচারের প্রতীক। এখন দেখার বিষয়—প্রশাসন কি জেগে উঠবে, নাকি আরেকটি অন্যায়ের গল্প চাপা পড়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *