একঝাঁক নিঃস্বার্থ মানুষ এবং একটি সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন

জাকির হোসেন

আমরা কি কখনো খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে নতুন সূর্যের দিকে তাকিয়েছি? সেই সূর্যের আলোয় কোনো ভেদাভেদ থাকে না, কোনো অন্ধকার থাকে না। ঠিক তেমনি এক নতুন ভোরের প্রত্যাশায়, সমাজের সব অন্যায়, অনিয়ম আর দুর্নীতির অন্ধকার কাটাতে টাঙ্গাইল পৌরসভাধীন ১৮নং ওয়ার্ডে শুরু হয়েছিল এক নতুন পথচলা। সালটা ছিল ২০১৪। সমাজের মলিনতা মুছে ফেলার এক অদম্য জেদ নিয়ে কয়েকজন মানুষ এক হয়ে গড়ে তুলেছিলেন ‘সামাজিক উন্নয়ন কমিটি’।

বিগত বারোটি বছর ধরে এই সংগঠনটি ১৮নং ওয়ার্ডের প্রতিটি মানুষের সুখে-দুঃখে ছায়ার মতো জড়িয়ে আছে। কোনো অসুস্থ মানুষ যখন অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারে না, কোনো পিতা যখন তার বিবাহযোগ্যা কন্যার বিয়ের খরচ জোগাতে হিমশিম খায়, কিংবা কোনো শিশু যখন টাকার অভাবে বই-খাতা ছুঁতে পারে না—তখন এই মানুষগুলো কোনো এক জাদুকরী মায়ায় তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। মাদক দূরীকরণ, বাল্যবিবাহ রোধ থেকে শুরু করে রাস্তা বা দেওয়াল নিয়ে ছোটখাটো পারিবারিক দ্বন্দ্ব—সবকিছুতেই এই সংগঠনটি এক পরম শান্তির আশ্রয়।

এই পুরো পথচলায় যিনি বটবৃক্ষের মতো সবাইকে মাথার ওপর ছায়া দিয়ে আগলে রেখেছেন, তিনি হলেন এই ১৮নং ওয়ার্ডের জনমানুষের কান্ডারী ডাঃ আব্দুল মতিন (রতন)। তাঁর উদ্দীপনা আর স্নেহমাখা প্রেরণা ছাড়া এই বিশাল কাজ হয়তো সম্ভব হতো না। আর যাঁর নিরলস পরিশ্রম এই সংগঠনটিকে আজ এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে, তিনি হলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন। সমাজের যত অসংগতি, তার বিরুদ্ধে তিনি ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তাঁদের এই স্বপ্নের সারথি হিসেবে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন সহ-সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন এবং অ্যাডভোকেট শাহিনুর রহমান শাহিন। আর কোদালিয়া জান্নাতুল ফিরদাউস জামে মসজিদের ইমাম মোঃ শহীদুল ইসলাম (আমজাদ) সামলাচ্ছেন অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব। সকল সদস্যের এই সম্মিলিত চেষ্টার ফল আজ চোখে পড়ে। এই ওয়ার্ডে আজ আর কোনো সামাজিক সমস্যা নেই বললেই চলে।

“মানুষের মাঝে বিভেদ থাকতে পারে, কিন্তু ভালো থাকার আকুতি সবার এক।” সভাপতি ডাঃ আব্দুল মতিন (রতন) আজ এক বড় আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি চান, শুধু টাঙ্গাইল নয়, বরং বাংলাদেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে এমন একটি করে সামাজিক উন্নয়ন কমিটি গড়ে উঠুক। যেখানে থাকবে না কোনো হিংসা, থাকবে না কোনো স্বার্থপরতা।

দিনশেষে এই পৃথিবীটা খুব ক্ষণিকের। আজ আছি, কাল হয়তো নেই। তাই যতটুকু সময় আমরা এই পৃথিবীতে আছি, আসুন না আমরা অন্যকে ভালো রাখার চেষ্টা করি। মানবতার এই ছোট্ট প্রদীপগুলো যদি প্রতিটি পাড়ায় জ্বলে ওঠে, তবে একদিন পুরো বাংলাদেশটাই এক মায়াময় আলোয় ভরে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *