দুই মাসেই বিএনপির শাসনের চিত্র স্পষ্ট: এবি পার্টি

ঢাকায় এবি পার্টির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালি ও সমাবেশে দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বিএনপির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, মাত্র দুই মাসেই জনগণ বুঝে গেছে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে বিএনপির শাসন কেমন হতে পারে।

শুক্রবার সকাল ১০টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন বিজয়-৭১ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। র‍্যালিটি পল্টন মোড়, নাইটিংগেল ও কাকরাইল ঘুরে আইডিইবি ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন।

সমাবেশে মঞ্জু অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ, বিসিবির নির্বাচিত বোর্ড বাতিল করে নতুন বোর্ড গঠন—এসব সিদ্ধান্তে দলীয়করণের প্রবণতা স্পষ্ট। তিনি আরও বলেন, মাত্র দুই মাসে ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণ, জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি—এসব ঘটনা ভবিষ্যতের শাসন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।

তিনি দাবি করেন, সংকট না থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে জ্বালানি খাতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। থানার ভেতরে হামলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দখল ও সন্ত্রাসের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, তাদের দল রাষ্ট্র সংস্কারের যে ধারণা সামনে এনেছিল, এখন তা অন্য দলগুলোর মুখেও শোনা যাচ্ছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, অনেকেই “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগান দিলেও বাস্তবে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির একজন নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্যে দেশবাসী হতাশ হয়েছে, যেখানে সংস্কার নিয়ে কৌশলগত অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। এটিকে তিনি দেশের জন্য “লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেন।

সমাবেশে দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, দেশের রাজনীতিতে এখন নতুন ধারার চাহিদা তৈরি হয়েছে। তিনি সেবা ও সমস্যা সমাধানভিত্তিক রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠাই এবি পার্টির লক্ষ্য।

দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার বলেন, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে থাকার ঘোষণা দেন তিনি।

সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এবি পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অঙ্গীকার হিসেবে তারা রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *