জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দুই নেত্রীর মনোনয়ন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্মসচিব মো. মঈন উদ্দীন খান এ সিদ্ধান্ত জানান।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, মনিরা শারমিনের দেওয়া মনোনয়নপত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অসম্পূর্ণ রয়েছে। বিশেষ করে, তার চাকরি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য—কবে কোথায় চাকরি করেছেন এবং পদত্যাগের পূর্ণ বিবরণ—স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে তার মনোনয়ন যাচাই কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
মনিরা শারমিনকে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টার মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্য দিতে পারলে তার মনোনয়ন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, তিনি ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন। তবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো সরকারি চাকরি থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর তিন বছর না পেরোলে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যায় না। এই বিধানই তার ক্ষেত্রে একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, এনসিপির আরেক নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন সরাসরি বাতিল করেছে ইসি। কারণ, তিনি নির্ধারিত সময়ের পরে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
ইসি জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ২১ এপ্রিল বিকেল ৪টা। কিন্তু নুসরাত তাবাসসুম তার আবেদন জমা দেন বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে, অর্থাৎ নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে ১৯ মিনিট পরে। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের পর জমা দেওয়া কোনো মনোনয়ন গ্রহণযোগ্য নয়, তাই তার আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মো. মঈন উদ্দীন খান সাংবাদিকদের বলেন, সময়সীমা অতিক্রম করে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র গ্রহণের কোনো সুযোগ আইনে নেই।
এদিকে ইসি জানিয়েছে, জামায়াত জোটের জমা দেওয়া ১৩টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১২টি বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য এনসিপি মনিরা শারমিনকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছিল। এখন তার মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে কি না, তা নির্ভর করছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে পারেন কি না তার ওপর।