সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে। চুক্তিতে বাংলাদেশ এখনো সদস্য নয়। তবে ঢাকা সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিতে সই করেন। চুক্তির মূলনীতি হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান পরে বলেন, চুক্তির যৌথ প্রতিরক্ষা ধারা ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে কারিগরিভাবে তুলনীয়। তবে চুক্তির বাস্তব প্রয়োগের বিস্তারিত কাঠামো এখনো পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি।
চুক্তিটি ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একটি অংশ একে ‘মুসলিম ন্যাটো’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে এই তুলনা সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা প্রয়োজন।
ন্যাটোর মতোই এখানে যৌথ প্রতিরক্ষার ধারণা রয়েছে। কিন্তু ন্যাটোর দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, সামরিক কমান্ড ব্যবস্থা ও সদস্যদের সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার সঙ্গে মক্কা চুক্তির বর্তমান অবস্থাকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
চুক্তির অধীনে তিন দেশ মন্ত্রী পর্যায়ের কাঠামো, যৌথ মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে চুক্তির প্রথম কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থাৎ এটি কেবল একটি রাজনৈতিক ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। ধীরে ধীরে এর প্রাতিষ্ঠানিক ও সামরিক কাঠামো তৈরি হচ্ছে।
মক্কা চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক প্রশ্নগুলোর একটি হলো এর সম্ভাব্য লক্ষ্য।
চুক্তির সরকারি ভাষ্যে কোনো দেশকে শত্রু বা অভিন্ন হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, এটি প্রতিরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। তুরস্কও একই অবস্থান জানিয়েছে।
তবে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন প্রশ্ন তুলছে।
চুক্তিটি এমন এক সময়ে হয়েছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা তীব্র। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবকে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করে। একই সময়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, চুক্তিটি একই সঙ্গে ইরান ও ইসরায়েল—দুই পক্ষের কাছেই একটি বার্তা পাঠাচ্ছে। একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর একটি প্রচেষ্টাও হতে পারে।
তাই একে সরাসরি ‘ইরানবিরোধী চুক্তি’ বলা অতিরঞ্জিত হবে। তবে ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণ যে এই চুক্তির অন্যতম প্রেক্ষাপট, তা অস্বীকার করাও কঠিন।
এখানেই বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রয়টার্সের ২৫শে আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সময়ে ঢাকার পক্ষ থেকে চুক্তিটিকে ইতিবাচকভাবে দেখার কথাও বলা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ২৭শে আগস্ট সংসদে বলেছেন, বাংলাদেশকে এখনো বর্তমান সদস্যদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়নি এবং সদস্যপদের প্রশ্নটি এই পর্যায়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, আমন্ত্রণ এলে বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করা হবে।
ফলে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। বাংলাদেশ এখনো মক্কা চুক্তির সদস্য নয়। এমনকি আনুষ্ঠানিক সদস্যপদের প্রস্তাবের বিষয়েও সরকারের বক্তব্যে অস্পষ্টতা রয়েছে।
এই অবস্থায় বাংলাদেশকে ইতোমধ্যে জোটের অংশ ধরে নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করা বাস্তবতার চেয়ে এগিয়ে যাওয়া।
বাংলাদেশে চুক্তি নিয়ে আলোচনার একটি বড় অংশ ভারতকে ঘিরে।
ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বৈরিতা বিবেচনায় বাংলাদেশের সম্ভাব্য পাকিস্তান-ঘনিষ্ঠ সামরিক অবস্থান দিল্লির উদ্বেগের কারণ হতে পারে। রয়টার্সও বলেছে, বাংলাদেশ মক্কা জোটে যোগ দিলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
ভারতীয় গণমাধ্যমেও বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
যে চুক্তিতে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আমন্ত্রণই জানানো হয়নি, সেটিকে কেন্দ্র করে ভারতীয় গণমাধ্যমের অতিরিক্ত মাতামাতি এবং দেশের ভেতরে একটি মহলের অতি-উৎসাহ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার মতো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী মুসলিম দেশগুলোকে বাদ রাখা হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো একটি দেশকে জড়িয়ে কেন এই হাইপোথিক্যাল বা কাল্পনিক বিতর্ক তৈরি করা হলো?
বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে নিখুঁত ভূ-রাজনৈতিক কৌশল বা ‘রিভার্স নিক্সন’ স্ট্র্যাটেজি। চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব মোকাবিলায় ভারতীয় মিডিয়া এই প্রিএম্পটিভ প্রক্সি তৈরি করেছে। বাংলাদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সরল ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে উস্কে দিয়ে এক পক্ষকে এই জোটে যোগদানের পক্ষে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে, যাতে চীন বা অন্য কোনো মিত্র দেশ এর বিরোধিতায় দাঁড়ালে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে একটি মনস্তাত্ত্বিক ক্ষোভ তৈরি হয়। অর্থাৎ, “সাপও মরবে, লাঠিও ভাঙবে না”—এই নীতিতেই মূলত কৌশলগত ফাঁদ পাতা হয়েছে।
তবে ভারত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে জোটে ঠেলে দিতে চাইছে, তার পক্ষে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। ‘রিভার্স নিক্সন’ কৌশল হিসেবে ভারতীয় মিডিয়ার প্রচারকে ব্যাখ্যা করাও তাই আপাতত একটি বিশ্লেষণাত্মক অনুমান, প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়।
তবে একটি বিষয় বাস্তব। বাংলাদেশ যদি পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের নেতৃত্বাধীন কোনো যৌথ সামরিক কাঠামোর অংশ হয়, তাহলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের নিরাপত্তা সম্পর্কের ওপর তার প্রভাব পড়বে। একইভাবে চীনের সঙ্গেও বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নতুন হিসাব তৈরি হতে পারে।
চুক্তিতে যোগদানের পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি হলো প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। তুরস্কের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প বাংলাদেশের জন্য প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও যৌথ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। চুক্তির তিন সদস্যই প্রতিরক্ষা শিল্প ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক যোগাযোগও নতুন পর্যায়ে যেতে পারে। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ফলে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র শুধু অস্ত্র কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, সামরিক চিকিৎসা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতাও এর অংশ হতে পারে।
তবে এসব সুবিধা সম্ভাব্য। চুক্তিতে যোগ দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন হবে বা প্রবাসী কর্মসংস্থান বেড়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
বাংলাদেশের জন্য মূল প্রশ্নটি সামরিক সুবিধা নয়। প্রশ্ন হলো—এই সুবিধার বিনিময়ে বাংলাদেশকে কী ধরনের নিরাপত্তা দায় নিতে হবে।চুক্তিতে বলা হয়েছে, একটি সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলা অন্য সদস্যদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে পাকিস্তান ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে বাংলাদেশের ওপরও রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ তৈরি হতে পারে।
তবে এটাও বলা ঠিক নয় যে এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে অবধারিতভাবেই সেনা পাঠাতে হবে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। চুক্তির প্রকাশ্য ভাষায় যৌথ প্রতিরক্ষার নীতি রয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিরক্ষা কীভাবে কার্যকর হবে, কোন সদস্য কী ধরনের সামরিক সহায়তা দেবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কী হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো সীমিত।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা এখানে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের স্থলসীমান্তের বড় অংশ ভারতের সঙ্গে। মিয়ানমারের সঙ্গেও সীমান্ত রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সরাসরি স্থল যোগাযোগ নেই।
ফলে দক্ষিণ এশিয়ার কোনো বড় সামরিক সংঘাত হলে বাংলাদেশের ঝুঁকি অন্য দুই সদস্যের তুলনায় আলাদা হবে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে একই সঙ্গে সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে হতে পারে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির আরেকটি বড় প্রশ্ন চীন ও ইরানকে ঘিরে। চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত অংশীদার। ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ রয়েছে। মক্কা চুক্তি ভবিষ্যতে যদি একটি নির্দিষ্ট আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্লকে রূপ নেয়, তাহলে বাংলাদেশের ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ নীতির বাস্তব প্রয়োগ কঠিন হতে পারে।
আবার বিপরীত যুক্তিও আছে। তুরস্ক নিজেই ন্যাটোর সদস্য। একই সঙ্গে রাশিয়া, ইরান, চীন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন মাত্রায় সম্পর্ক বজায় রাখে। ফলে একটি সামরিক চুক্তিতে যোগ দেওয়া মানেই সব পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা—এমন সরল সমীকরণও ঠিক নয়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আসল বিষয় হবে চুক্তির শর্ত এবং বাস্তব প্রয়োগের ধরন।
পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হওয়ায় কেউ কেউ মক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশের জন্য পাকিস্তানের পারমাণবিক নিরাপত্তার ছাতা হিসেবে দেখছেন। এটি এখন পর্যন্ত প্রমাণিত কোনো বিষয় নয়। চুক্তির প্রকাশ্য নথিতে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রকে অন্য সদস্যদের জন্য নিরাপত্তা-গ্যারান্টি হিসেবে ব্যবহারের কোনো ঘোষণা নেই। বরং চুক্তির ভাষ্য যৌথ প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছে।
তাই ‘পাকিস্তানের পারমাণবিক ছাতার নিচে বাংলাদেশ’—এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক স্লোগান হতে পারে। কিন্তু এটিকে এখনই কৌশলগত বাস্তবতা হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না।
মক্কা চুক্তি ভালো না খারাপ—এই প্রশ্নের সরল উত্তর নেই। বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো, কোন শর্তে যোগ দেওয়া হবে। যদি চুক্তি মূলত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, যৌথ প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা শিল্প ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কিন্তু যদি এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক সামরিক সংঘাতে পক্ষ নিতে হয়, তাহলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।
বিশেষ করে পাকিস্তান-ভারত সংঘাতের সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়। একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাত হলেও ঢাকার কৌশলগত স্বাধীনতা পরীক্ষা হতে পারে।
তাই মক্কা চুক্তিকে শুধু ‘মুসলিম ঐক্যের জোট’ হিসেবে দেখা যেমন ভুল, তেমনি একে নিশ্চিতভাবে ‘ইরানবিরোধী’ সামরিক জোট’ হিসেবেও চিহ্নিত করা এখনই অতিরঞ্জন।
চুক্তির প্রকৃত চরিত্র আগামী কয়েক মাসে আরও পরিষ্কার হবে। বিশেষ করে যৌথ কমিটি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সদস্যপদ সম্প্রসারণ কীভাবে হয় এবং কোনো সামরিক সংকটে যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর করা হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ হতে পারে আবেগের বদলে শর্তভিত্তিক কূটনীতি। সদস্য হওয়ার আগে ঢাকাকে জানতে হবে—বাংলাদেশের সামরিক দায় কতটা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কতটা, অন্য সদস্যের যুদ্ধে বাংলাদেশের ভূমিকা কী হবে এবং চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ আছে কি না।
কারণ প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়া কোনো প্রতীকী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়। এর সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতির দীর্ঘমেয়াদি হিসাব জড়িয়ে থাকে।
বাংলাদেশের প্রচলিত পররাষ্ট্রনীতির ভাষায়—সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।
মক্কা চুক্তি নিয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও সেই নীতির সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হবে—বাংলাদেশ কি একই সঙ্গে নিজের নিরাপত্তা বাড়াতে পারবে এবং কৌশলগত স্বাধীনতাও ধরে রাখতে পারবে?