আন্তর্জাতিক ডুয়াথলন প্রতিযোগিতা পাওয়ারম্যান মালয়েশিয়া ২০২৬-এ একসঙ্গে অংশ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের একটি পরিবার। বাবা, মা ও ছেলে—তিনজনই একই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনে অংশ নিয়ে পরিবার হিসেবে একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে চলেছেন।
পরিবারটির সদস্যরা হলেন সাবেক কর্পোরেট এইচআর কর্মকর্তা মাহফুজা হক, টেলিযোগাযোগ খাতের সিনিয়র কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান মাহমুদ এবং তাঁদের ছেলে বিবিএর দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী তাফসীর জিনান মাহমুদ।
বিশ্বের অন্যতম বড় রান-বাইক-রান এনডুরেন্স রেস সিরিজ হিসেবে পরিচিত পাওয়ারম্যান-এর মালয়েশিয়া আসরে এবার তাঁরা তিনজন অংশ নেবেন। আয়োজনে পরিবারের তিন সদস্যের অংশগ্রহণকে তাঁরা দেখছেন দীর্ঘদিনের অনুশীলন, পারস্পরিক উৎসাহ এবং খেলাধুলার প্রতি আগ্রহের ধারাবাহিকতা হিসেবে।
এর আগে পরিবারের তিন সদস্য একসঙ্গে ব্যাংকক ম্যারাথন ২০২৩-এ অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন দৌড় ও সাইক্লিং ইভেন্টেও তাঁরা নিয়মিত অংশ নিয়ে আসছেন।
পাওয়ারম্যান মালয়েশিয়া ২০২৬-এ মোহাম্মদ হাসান মাহমুদ অংশ নেবেন ক্ল্যাসিক ডিসট্যান্স বিভাগে। এই বিভাগে রয়েছে ১০ কিলোমিটার দৌড়, ৬০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং আবার ১০ কিলোমিটার দৌড়। সব মিলিয়ে তাঁকে অতিক্রম করতে হবে ৮০ কিলোমিটার পথ।
অন্যদিকে মাহফুজা হক ও তাফসীর জিনান মাহমুদ অংশ নেবেন শর্ট ডিসট্যান্স বিভাগে। তাঁদের প্রতিযোগিতায় থাকবে ৫ কিলোমিটার দৌড়, ৩০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং আরও ৫ কিলোমিটার দৌড়। মোট দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার।
মালয়েশিয়ার প্রতিযোগিতা শেষ করেই তাঁদের ক্রীড়া-যাত্রা থামছে না। সেখান থেকে তাঁরা সরাসরি থাইল্যান্ডে যাবেন পাতায়া ম্যারাথন ২০২৬-এ অংশ নিতে।
এই ম্যারাথনে মোহাম্মদ হাসান মাহমুদ দৌড়াবেন ৪২ কিলোমিটারের ফুল ম্যারাথনে। মাহফুজা হক ও তাফসীর জিনান মাহমুদ অংশ নেবেন ২১ কিলোমিটারের হাফ ম্যারাথনে।
একই পরিবারের তিন সদস্যের এই ধারাবাহিক অংশগ্রহণের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের নিয়মিত অনুশীলন। তাঁদের কাছে দৌড় ও সাইক্লিং শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার বিষয় নয়; বরং পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে সময় কাটানো এবং সক্রিয় জীবনযাপনেরও একটি মাধ্যম।
তাঁদের এই উদ্যোগের আরেকটি দিক হলো পরিবারকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যকর জীবনধারার চর্চা। কর্মজীবন ও পড়াশোনার ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়মিত শরীরচর্চা এবং খেলাধুলাকে তাঁরা পারিবারিক জীবনের অংশ করে নিয়েছেন।
পাওয়ারম্যান মালয়েশিয়া এবং পাতায়া ম্যারাথন—দুই আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাবা, মা ও ছেলের অংশগ্রহণ তাই তাঁদের ব্যক্তিগত ক্রীড়া-অভিজ্ঞতার পাশাপাশি একটি পারিবারিক বার্তাও বহন করছে। তাঁদের প্রত্যাশা, এই যাত্রা বাংলাদেশের আরও পরিবারকে একসঙ্গে দৌড়, সাইক্লিং ও অন্যান্য খেলাধুলায় যুক্ত হতে উৎসাহিত করবে।