মোদির যুগে বদলে যাচ্ছে ভারত রাষ্ট্রের চরিত্র?

নরেন্দ্র মোদি ভারতের সংসদ ভবনে

ভারতের রাজনীতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দি ইকোনমিস্ট-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণের শিরোনাম—ইন্ডিয়া’স রিফাউন্ডিং ফাদারস্। এই শিরোনামের নিচে রয়েছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ একটি বাক্য—নেশন-বিল্ডিং ইজ ইভেন হার্ডার দ্য সেকেন্ড টাইম রাউন্ড। অর্থাৎ, ভারতকে দ্বিতীয়বারের মতো নতুন করে গড়ে তোলা প্রথমবারের চেয়েও কঠিন।

‘রিফাউন্ডিং’ বা ‘পুনর্প্রতিষ্ঠা’ শব্দটি এখানে নিছক রাজনৈতিক স্লোগান নয়। এটি ভারতের রাষ্ট্র, জাতীয় পরিচয় এবং সংবিধানকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রকল্পের দিকে ইঙ্গিত করে। এর কেন্দ্রে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি। তবে বিষয়টি শুধু মোদি বা বিজেপির রাজনৈতিক সাফল্যের গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভারতীয় রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ চরিত্রের প্রশ্ন।

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর ভারতকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে রূপ দেওয়ার প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল জওহরলাল নেহরু, মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর, সর্দার প্যাটেলসহ সংবিধান প্রণেতাদের। ১৯৫০ সালে কার্যকর হওয়া সংবিধান ধর্ম, ভাষা, জাতপাত ও অঞ্চলভেদে বিভক্ত একটি বিশাল সমাজকে একটি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসে।

ভারতের সেই রাষ্ট্রকাঠামোর অন্যতম ভিত্তি ছিল গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, আইনের শাসন এবং বহুত্ববাদ।

কিন্তু গত এক দশকে বিজেপি সরকার রাষ্ট্রের কিছু মৌলিক ধারণাকে নতুন রাজনৈতিক ভাষায় উপস্থাপন করছে। বিজেপির কাছে এটি ভারতের জাতীয় ঐক্য ও সভ্যতাগত পরিচয় পুনরুদ্ধারের প্রকল্প। সমালোচকদের কাছে এটি রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের পুনর্বিন্যাস।

এই দ্বন্দ্বই ‘রিফাউন্ডিং’-এর মূল প্রশ্ন।

নরেন্দ্র মোদির সরকার গত ১২ বছরে আটটি সাংবিধানিক সংশোধনী করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির জন্য সংরক্ষণ এবং নারীদের জন্য আইনসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের মতো পরিবর্তন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ভারতের আইন মন্ত্রণালয় সংসদে এই তথ্য জানিয়েছে।

তবে মোদি সরকারের সাংবিধানিক প্রকল্প শুধু আনুষ্ঠানিক সংশোধনীতে সীমাবদ্ধ নয়।

জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ এবং ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি নিয়ে সরকারের অবস্থান ভারতের রাষ্ট্রীয় পরিচয় নিয়ে পুরোনো বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

মোদি নিজেই এসব পদক্ষেপকে সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। ২০২৪ সালে সংবিধানের ৭৫ বছর পূর্তি উপক্ষে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইউসিসি সংবিধান প্রণেতাদের অভিপ্রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সিএএ এবং ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলকেও তিনি জাতীয় ঐক্য ও সংবিধানের প্রয়োগের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।

অর্থাৎ সরকারের বক্তব্য হলো—তারা সংবিধান থেকে সরে যাচ্ছে না। বরং সংবিধানের একটি ভিন্ন রাজনৈতিক পাঠ বাস্তবায়ন করছে।

এখানেই বিতর্কের জায়গা।

ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘সেকুলার’ শব্দটি যুক্ত হয় ১৯৭৬ সালে। ভারতীয় ধর্মনিরপেক্ষতা অবশ্য পশ্চিমা রাষ্ট্রব্যবস্থার হুবহু অনুকরণ ছিল না। রাষ্ট্র সব ধর্মের প্রতি সমদূরত্ব বজায় রাখবে—এমন একটি নিজস্ব ধারণাও এর সঙ্গে যুক্ত ছিল।

মোদির রাজনৈতিক দর্শন এই সম্পর্ককে আরও নতুনভাবে ব্যাখ্যা করছে।

বিজেপির রাজনৈতিক ভাষ্যে ভারতীয় সভ্যতার ঐতিহ্য, হিন্দু সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং জাতীয় ঐক্যকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন নীতিতে এই ধারণার প্রতিফলন দেখা যায়।

অন্যদিকে বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, এর ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠের সাংস্কৃতিক পরিচয় রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের সঙ্গে ক্রমেই বেশি একীভূত হচ্ছে। এতে মুসলিমসহ সংখ্যালঘুদের নাগরিক সমতার প্রশ্ন সামনে আসছে।

তাই বিতর্কটি শুধু ‘ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম হিন্দুত্ব’ নয়। প্রশ্ন হলো—ভারতীয় নাগরিকত্বের ভিত্তি কি সাংবিধানিক সমতা থাকবে, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের সাংস্কৃতিক পরিচয় ক্রমে বেশি প্রভাবশালী হবে?

ভারতের রাজনৈতিক কাঠামোতেও বড় পরিবর্তনের আলোচনা চলছে।

২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে করার প্রস্তাব দেয়। ২০২৬ সালেও এ নিয়ে সংসদীয় কমিটির আলোচনা চলছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ভারতের নির্বাচনী কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। সংসদীয় কমিটির আলোচনায় ফেডারেলিজম ও সংবিধানের বেসিক স্ট্রাকচার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এর পাশাপাশি ২০২৬ সালে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বা ডেলিমিটেশন নিয়ে আরও বড় প্রস্তাব সামনে এসেছে।

প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংশোধনীতে লোকসভার সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা ৫৫০ থেকে ৮৫০ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের কাঠামো বদলানোর প্রস্তাব রয়েছে।

এর রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেক বড়।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলো বেশি আসন পেতে পারে। বিপরীতে দক্ষিণ ভারতের কিছু রাজ্যের আপেক্ষিক প্রতিনিধিত্ব কমতে পারে। ফলে এটি শুধু নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার নয়। এটি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং ভারতের ফেডারেল কাঠামোর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সরকার এই পরিবর্তনকে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, এর লক্ষ্য সংবিধানপ্রণেতাদের নির্ধারিত ‘ওয়ান পারসন, ওয়ান ভোট, ওয়ান ভ্যালু’ নীতিকে আরও কার্যকর করা।

কিন্তু বিরোধীদের আশঙ্কা ভিন্ন।

তাদের প্রশ্ন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলো যদি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়ে, তাহলে সেটি কি ন্যায্য হবে?

এখানেই ‘পুনর্প্রতিষ্ঠা’ ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারতীয় রাষ্ট্রের পুরোনো ভারসাম্য নতুন জনসংখ্যাগত বাস্তবতার সঙ্গে কীভাবে বদলাবে, সেটি এখন একটি বড় সাংবিধানিক প্রশ্ন।

মোদির ‘নতুন ভারত’ কেবল সাংস্কৃতিক বা সাংবিধানিক প্রকল্প নয়। এর আরেকটি স্তম্ভ অর্থনৈতিক রূপান্তর।

ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, সরাসরি সরকারি সুবিধা প্রদান, অবকাঠামো উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভারতকে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বানানোর উদ্যোগকে সরকার নতুন ভারতের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছে।

‘আমরিত কাল’ ধারণার মাধ্যমে ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই অর্থনৈতিক প্রকল্পের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ রয়েছে। সরকারের রাজনৈতিক বয়ানে শক্তিশালী অর্থনীতি, শক্তিশালী রাষ্ট্র এবং শক্তিশালী জাতীয় পরিচয় পরস্পরকে সমর্থন করে।

এটি মোদি যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি।

বিজেপির রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে একটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। দলটি জোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করে। এর অর্থ হলো ভারতের ভোটাররা মোদি নেতৃত্বকে প্রত্যাখ্যান করেনি, কিন্তু বিজেপিকে আগের মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাও দেয়নি।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপির সাফল্য অবশ্য দলটির রাজনৈতিক শক্তি আবার বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের রাজ্য নির্বাচনগুলোতেও বিজেপির বিস্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফলে ভারতীয় রাজনীতিতে এখন একটি অদ্ভুত দ্বৈত বাস্তবতা রয়েছে।

একদিকে মোদি এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতা। অন্যদিকে ভারতের নির্বাচনী রাজনীতি পুরোপুরি একদলীয় হয়ে যায়নি।

‘পুনর্প্রতিষ্ঠা’র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সম্ভবত নির্বাচন নয়। প্রশ্নটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভারসাম্য নিয়ে।

সংবিধান সংশোধন করা নিজেই গণতন্ত্রবিরোধী নয়। ভারতীয় সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ রেখেছে। গত সাত দশকে বহুবার এর সংশোধন হয়েছে।

সমস্যা দেখা দেয় তখন, যখন রাজনৈতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে একই দিকে ঠেলে দেয়।

বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, সংসদ, গণমাধ্যম এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি—এই প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেটিই গণতন্ত্রের প্রকৃত পরীক্ষা।

ভারতের ক্ষেত্রে এই প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটির সংবিধান শুধু সরকার পরিচালনার নিয়ম নির্ধারণ করেনি। এটি একটি বহুত্ববাদী সমাজকে এক রাষ্ট্রের মধ্যে ধরে রাখার রাজনৈতিক চুক্তিও তৈরি করেছে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ‘বেসিক স্ট্রাকচার ডকট্রিন’ এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

এই মতবাদ অনুযায়ী সংসদ সংবিধান সংশোধন করতে পারে। কিন্তু সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস করতে পারে না।

গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো এই নীতির সুরক্ষার আওতায় এসেছে।

২০২৬ সালের ডেলিমিটেশন বিতর্কেও বেসিক স্ট্রাকচার নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সংসদীয় কমিটির আলোচনায় ফেডারেলিজম এবং এই মতবাদকে সরাসরি সাংবিধানিক প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এ কারণেই ভারতের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে শুধু ‘মোদি বনাম বিরোধী দল’ হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়।

এটি শেষ পর্যন্ত সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা নিয়েও প্রশ্ন।

দ্য ইকোনমিস্ট-এর শিরোনামটি আক্ষরিক অর্থে মোদি ও অমিত শাহকে ভারতের নতুন ‘প্রতিষ্ঠাতা পিতা’ ঘোষণা করছে—এমনটা বলা ঠিক হবে না। বরং ‘রিফাউন্ডিং ফাদার’স একটি রাজনৈতিক রূপক।

এর মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে এমন এক নেতৃত্বকে, যারা স্বাধীনতার পর নির্মিত ভারতের রাজনৈতিক ও জাতীয় পরিচয়কে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চাইছে।

এই প্রকল্পে মোদি সবচেয়ে দৃশ্যমান মুখ। বিজেপি এবং বৃহত্তর হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক পরিসর এর আদর্শিক ভিত্তি তৈরি করেছে। অমিত শাহ রাষ্ট্রীয় ও সাংগঠনিক স্তরে এর অন্যতম প্রধান কৌশলগত ব্যক্তি।

তবে এটিকে শুধু দুই ব্যক্তির প্রকল্প বললেও ভুল হবে। ভারতের রাজনীতি, ভোটারদের আকাঙ্ক্ষা, মধ্যবিত্তের উত্থান, আঞ্চলিক বৈষম্য, ধর্মীয় পরিচয় এবং বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা—সব মিলিয়েই এই পরিবর্তনের সামাজিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

ভারতের সামনে এখন মূল প্রশ্নটি খুব সরল।

দেশটি কি পুরোনো সংবিধানকে রেখে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করবে?

নাকি রাজনৈতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সংবিধানের মূল দর্শনই নতুন করে সংজ্ঞায়িত করবে?

মোদির সমর্থকদের কাছে এটি ভারতের বহু পুরোনো দুর্বলতা কাটিয়ে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ। তাদের যুক্তি, সংবিধান স্থির কোনো পাথরের ফলক নয়। সময়ের সঙ্গে এর প্রয়োগ বদলাতে পারে।

সমালোচকদের ভয়, ‘নতুন ভারত’ নির্মাণের নামে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠের পরিচয় রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের কেন্দ্রে চলে আসে, তবে স্বাধীনতার সময় তৈরি বহুত্ববাদী রাজনৈতিক চুক্তি দুর্বল হতে পারে।

এই দ্বন্দ্বের সমাধান কোনো একক নির্বাচন দেবে না।

ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে তার প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা স্বাধীন থাকে, বিরোধীরা কতটা কার্যকর থাকে, আদালত কতটা সাংবিধানিক সীমারেখা রক্ষা করে এবং রাষ্ট্র নাগরিকদের ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে কতটা সমান মর্যাদা দিতে পারে—তার ওপর।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *