অজিদের দুর্গে টাইগারদের গর্জন

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা ওভালে রোববার (১৬ই আগস্ট) স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরে এসে পাওয়া এই জয়কে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঐতিহাসিক এই জয়ের পর বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে পেস বোলিংয়ে সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে সামনে এনেছেন। তাঁর মতে, দেশের তরুণ পেসারদের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে মানসিকতার বড় পরিবর্তন এসেছে।

শান্ত বলেন, পাঁচ বছর আগেও বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেট খেলার আগ্রহ তুলনামূলক কম ছিল। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। দীর্ঘতম ফরম্যাটকে গুরুত্ব দিয়ে পেসাররা খেলতে ও পারফর্ম করতে চাইছেন এবং বিশ্বমানের বোলার হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন।

বাংলাদেশ অধিনায়ক জানান, দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মোমিনুল হকের মতো সিনিয়ররাও তরুণ পেসারদের বেশি টেস্ট খেলার জন্য উৎসাহিত করেছেন। তাঁর মতে, এই পরিবর্তিত মানসিকতার প্রতিফলনই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে দেখা গেছে।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম প্রধান কারিগর হাসান মাহমুদ। ২৬ বছর বয়সী এই পেসার প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেন। ম্যাচে তাঁর মোট শিকার ৯ উইকেট এবং তাঁকেই ম্যাচসেরার পুরস্কার দেওয়া হয়।

বিশেষ তাৎপর্যের বিষয়, অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১০টি উইকেটই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। দুই গুরুত্বপূর্ণ পেসার নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম চোটের কারণে দলের বাইরে থাকলেও পেস আক্রমণ অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে চাপে রাখতে সক্ষম হয়।

অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য মোটেই আশাব্যঞ্জক ছিল না। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল তারা।

তবে সেই ব্যর্থতা দলের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিতে পারেনি। হাসান মাহমুদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোচদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি ব্যাটারের জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যাটারদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে মাঠে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন বোলাররা।

হাসানের মতে, বোলারদের ধৈর্য এবং নির্দিষ্ট লাইন-লেন্থে বল করার ধারাবাহিকতা শেষ পর্যন্ত ফল এনে দিয়েছে।

ডারউইনের জয় বাংলাদেশের সামনে আরও বড় সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। দুই ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট হবে কুইন্সল্যান্ডের ম্যাকেতে। সেখানে জিততে পারলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ও নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের।

তবে শান্ত এখনই সিরিজ নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হতে চান না। তাঁর লক্ষ্য পাঁচ দিন ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলা এবং সেশন ধরে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখা। এবং লোয়ার অর্ডার যদি এভাবেই অবদান রাখতে থাকে, তবে আমরা আরও বড় কিছু অর্জন করতে পারব।”।

ডারউইনের জয় তাই শুধু একটি টেস্ট ম্যাচের ফল নয়। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের কার্যকারিতা এবং টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে বদলে যাওয়া মানসিকতারও এটি বড় পরীক্ষা ছিল। সেই পরীক্ষায় বাংলাদেশ দারুণভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *