শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশি ওষুধের ব্যবহার আরও বাড়ানোর পাশাপাশি ওষুধ উৎপাদনে যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে স্বাস্থ্য ও ওষুধ খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
আজ শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. নলিন্দা জয়তিস্সার সঙ্গে দেশটির রাজধানীতে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের স্বাস্থ্য ও ওষুধ খাতের সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. নলিন্দা জয়তিস্সা বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে তার অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশি ওষুধের অবদানেরও প্রশংসা করেন তিনি। বিশেষ করে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের সক্ষমতা ও শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশি ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের ভূমিকার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
শ্রীলঙ্কার মন্ত্রী বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ওষুধ শিল্পের মধ্যে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথভাবে ওষুধ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হলে তা পারস্পরিকভাবে লাভজনক হতে পারে বলে বৈঠকে মত উঠে আসে।
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্পে দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলেছে। দেশের উৎপাদিত ওষুধ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি হচ্ছে। শ্রীলঙ্কাতেও বাংলাদেশি ওষুধের উপস্থিতি রয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য, ওষুধ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধ উৎপাদনে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হলে তা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের সহযোগিতাকেও নতুন মাত্রা দিতে পারে। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা এবং শ্রীলঙ্কার স্থানীয় বাজার—দুই পক্ষের জন্যই এ ধরনের সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে।