বাংলাদেশ-নাইজেরিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনা

বাংলাদেশের হাইকমিশনার মাইনুল কবিরের সঙ্গে নাইজেরিয়ার চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল ওলুওতোমি ওলুইয়েডের বৈঠক।

নাইজেরিয়ার সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পর্যালোচনা এবং এর পরিধি আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সমুদ্র নিরাপত্তায় সহযোগিতা জোরদারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নাইজেরিয়ায় নিযুক্ত হাইকমিশনার  মিয়া মো. মাইনুল কবির নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল ওলুওতোমি ওলুইয়েডের সঙ্গে নাইজেরিয়ার ডিফেন্স হেডকোয়ার্টার্সে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতে দুই দেশের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সম্পর্কের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

আলোচনায় সামরিক প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। শান্তি প্রতিষ্ঠা কার্যক্রমেও দুই দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও উঠে আসে।

বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়া উভয় দেশই জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। ফলে শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও কার্যকর করতে পারে।

সাক্ষাতে প্রতিরক্ষা-টু-প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে শুধু নিরাপত্তা সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে কাজে লাগানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সম্পর্কের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান যোগাযোগকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নাইজেরিয়া পশ্চিম আফ্রিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব আঞ্চলিক পর্যায়েও উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

দুই দেশের এই সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগও বাংলাদেশ-নাইজেরিয়া সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সাম্প্রতিক বৈঠকটি দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও বহুমাত্রিক করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *