আইএইএ সভায় পারমাণবিক নিরাপত্তায় বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

IAEA বোর্ড সভায় বাংলাদেশের জাতীয় বিবৃতি দিচ্ছেন ভিয়েনায় রাষ্ট্রদূত তৌফিক হাসান

ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বোর্ড অব গভর্নরসের সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সভায় অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। এতে পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদারে দেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সব দেশের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের কথা তুলে ধরা হয়।

বুধবারের (৯ই সেপ্টেম্বর) সভায় বাংলাদেশের পক্ষে বিবৃতি দেন ভিয়েনায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও অস্ট্রিয়ায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত তৌফিক হাসান। তিনি বলেন, পারমাণবিক নিরাপত্তা একটি অভিন্ন বৈশ্বিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ জাতীয় পর্যায়ে এ দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশ বর্তমানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী দেশ হিসেবে নিজস্ব পারমাণবিক নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করছে। এর অংশ হিসেবে পারমাণবিক উপাদান ও পারমাণবিক স্থাপনার ভৌত সুরক্ষা নিয়ে বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ভৌত সুরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণ প্রকল্পও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় বিবৃতিতে বাংলাদেশের জন্য আইএইএ-এর সক্ষমতা উন্নয়ন সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে পারমাণবিক স্থাপনার ভৌত সুরক্ষা, কম্পিউটার নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ হুমকি মোকাবিলা, তেজস্ক্রিয়তা-সম্পর্কিত অপরাধস্থল ব্যবস্থাপনা এবং নিউক্লিয়ার ফরেনসিকসের মতো ক্ষেত্রে সংস্থাটির সহযোগিতার প্রশংসা করে বাংলাদেশ।

তৌফিক হাসান বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা বাংলাদেশ আইএইএ-এর কারিগরি সহযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এসব সহায়তা দেশের পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ পারমাণবিক উপাদানের ভৌত সুরক্ষা সম্পর্কিত কনভেনশন (সিপিপিএনএম) এবং এর সংশোধনীতে পক্ষভুক্ত দেশ। আইএইএ-এর তেজস্ক্রিয় উৎসের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সম্পর্কিত কোড অফ কনডাক্ট বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ঢাকা। আইএইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০০৫ সালে সিপিপিএনএম-এ এবং ২০১৭ সালে এর সংশোধনীতে যোগ দেয়।

২০২৭ সালে সিপিপিএনএম-এর সংশোধনীর পক্ষভুক্ত দেশগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় বিবৃতিতে বাংলাদেশ ওই সম্মেলনের প্রস্তুতি ও কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সামনে রেখে বাংলাদেশের পারমাণবিক নিরাপত্তার বিষয়টি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পরিধিও ধীরে ধীরে বাড়ছে। ফলে নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা।

ভিয়েনায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন আইএইএ-সহ জাতিসংঘের ভিয়েনাভিত্তিক বিভিন্ন সংস্থায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। তৌফিক হাসান ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অস্ট্রিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ভিয়েনায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতীয় বিবৃতিতে বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে, পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু কোনো একটি দেশের নয়। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ দায়িত্ব। বাংলাদেশ নিজস্ব জাতীয় অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্বচ্ছতা, সহযোগিতা এবং শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্য নিয়ে এ দায়িত্ব পালনে অব্যাহতভাবে কাজ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *