আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ে সেবা, বাজেট ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে আসছে নতুন কাঠামো

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ সরকারি সেবা সমন্বয় বিষয়ক কর্মশালায় বক্তব্য দিচ্ছেন।

সরকারি সেবার কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত ও ফলাফলভিত্তিক করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সার্ভিস ডেলিভারি ম্যাট্রিক্স, পলিসি ব্রিফ ও ট্র্যাকার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়ন, সরকারি সেবা পরিবীক্ষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও সহজ হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

ঢাকার শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির সম্মেলনকক্ষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ইন্টার-মিনিস্ট্রিয়াল ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপ অন পাবলিক সার্ভিস ডেলিভারি পলিসি ব্রিফ্‌স অ্যান্ড ম্যাট্রিক্স’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, সরকার নাগরিকদের কী কী সেবা দিচ্ছে, এসব সেবা কার জন্য এবং কোন প্রতিষ্ঠান তা দিচ্ছে—তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিটি সেবায় কত ব্যয় হচ্ছে এবং এর প্রত্যাশিত ফলাফল কী, তাও নির্ধারণ করতে হবে। সেবা দিতে গিয়ে কোথায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বের করতে হবে।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সেবাগুলোকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে যুক্ত করে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। এরপর প্রতিটি সেবার উপকারভোগী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও অধিদপ্তর, প্রয়োজনীয় বাজেট এবং সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতাকে একটি সার্ভিস ডেলিভারি ম্যাট্রিক্সে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, একটি সেবাকে শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না। নীতি, উপকারভোগী, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান, বাজেট, প্রত্যাশিত ফলাফল এবং নাগরিকের মতামতকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।

এ ধরনের কাঠামো চালু হলে জাতীয় পর্যায়ে সরকারি সেবার একটি সমন্বিত তালিকা তৈরি করা সম্ভব হবে। একই ধরনের সেবার পুনরাবৃত্তিও কমানো যাবে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে।

সেবার সঙ্গে বাজেট বরাদ্দের সম্পর্ক তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা। তাঁর মতে, এতে কর্মকর্তারা তাঁদের দায়িত্বের সঙ্গে পরিমাপযোগ্য ফলাফলের সম্পর্ক আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবেন। এর ফলে প্রশাসনের দক্ষতা এবং নাগরিক সেবার মান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি সরকারি সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে একটি ট্র্যাকার রাখার প্রস্তাব দেন। এতে সমস্যা, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান, করণীয়, সময়সীমা এবং অগ্রগতির তথ্য থাকবে।

তিনি বলেন, কর্মশালার মূল লক্ষ্য হলো নীতিকে সেবার সঙ্গে, সেবাকে উপকারভোগীর সঙ্গে, উপকারভোগীকে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এবং প্রতিষ্ঠানকে বাজেটের সঙ্গে যুক্ত করা। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতাকেও পরিমাপযোগ্য ফলাফলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সরকারের বিভিন্ন সেবা দেখাশোনার দায়িত্ব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও এসডিজি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে ম্যাট্রিক্স তৈরি করা হলে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার সেবা একসঙ্গে পরিবীক্ষণ করা সম্ভব হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর ও সচিব ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম বলেন, সরকারের বিভিন্ন সেবা একই ম্যাট্রিক্সের আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের সেবাকর্মীদের মাসিক সম্মানি ভাতার মতো কর্মসূচিও থাকবে। এসব সেবার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে ট্র্যাকার চালু করা হবে।

কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সরকারি বিভিন্ন সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার। তিনি কর্মকর্তাদের জনগণের সেবায় দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন।

কর্মশালায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা এবং বিসিএস প্রশাসন একাডেমির ফ্যাকাল্টি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *