কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাদিয়া সুলতানা ইমুকে ধর্ষণের পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে মো. জসিম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩রা সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল হান্নান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জসিম উদ্দিন বরুড়া উপজেলার গজারিয়া গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে নাদিয়া সুলতানা ইমু তার মায়ের খালা বাড়ি বরুড়া উপজেলার গজারিয়া গ্রামে বেড়াতে যায়। ঘটনার দুই দিন পর, ১৪ই ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে তাকে স্থানীয় তাজু মিয়ার মুদি দোকানে পাঠানো হয়।
তবে দোকানে যাওয়ার পর নাদিয়া আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় তার খোঁজ করতে থাকেন। পরে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তারা বরুড়া উপজেলার রাড়ী গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির উত্তর পাশে আব্দুল লতিফের বাঁশবাগানে যান।
সেখানে নাদিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল।
এ ঘটনায় নাদিয়ার মা মঞ্জুমা বেগম বাদী হয়ে বরুড়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(২) ধারায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্তের সময় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জসিম উদ্দিনকে শনাক্ত করে আটক করে। পরে তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
মামলাটি বিচারের জন্য আদালতে আসার পর জসিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন।
এর পরই আদালত জসিম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। জরিমানা পরিশোধ না করলে তাকে আরও তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।