হালাল মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণে দক্ষ কর্মী তৈরি করবে এনএসডিএ

এনএসডিএর সম্মেলন কক্ষে হালাল বুচারি অ্যান্ড মিট প্রসেসিং পেশার কারিকুলাম প্রণয়ন কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠান।

ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে হালাল মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। এই চাহিদাকে সামনে রেখে বাংলাদেশে ‘হালাল বুচারি অ্যান্ড মিট প্রসেসিং’ পেশার জন্য কম্পিটেন্সি-বেজড কারিকুলাম প্রণয়ন করছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)।

উদ্যোগটির লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ ও সার্টিফায়েড কর্মী তৈরি করা। একই সঙ্গে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। দক্ষ জনশক্তি তৈরি হলে বাংলাদেশের কর্মীদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছে এনএসডিএ।

এ লক্ষ্যে দুই পর্যায়ে চার দিনব্যাপী কর্মশালা আয়োজন করা হয়। এগ্রোফুড সেক্টরের অধীন ‘হালাল বুচারি অ্যান্ড মিট প্রসেসিং’ অকুপেশনের কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড (সিএস) এবং কোর্স অ্যাক্রিডিটেশন ডকুমেন্ট (সিএডি) প্রণয়নের জন্য কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার (৩১শে আগস্ট) এনএসডিএর সম্মেলন কক্ষে কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠান হয়। এতে এগ্রোফুড সেক্টর ও শিল্প খাতের প্রতিনিধি, একাডেমিয়ার সদস্য, বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ এবং এনএসডিএর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সরকারের সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী।

এনএসডিএ সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে হালাল মাংসের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ক্রমেই প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে। আধুনিক কসাইখানা ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি, খাদ্য নিরাপত্তা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়েই ‘হালাল বুচারি অ্যান্ড মিট প্রসেসিং’ অকুপেশনের কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এটিকে ‘কান্ট্রি স্পেসিফিক’ হিসেবে প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো বড় মাংস উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশের শ্রমবাজারের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব বাজারে হালাল মাংস উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধান মেনে চলার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন কারিকুলামে তাই শুধু প্রচলিত বুচারি বা মাংস কাটার দক্ষতা নয়, আধুনিক মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। শিল্প খাতের চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হচ্ছে।

এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা মানদণ্ড ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য নতুন বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও বিদেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

কর্মশালায় প্রণীত সিএস ও সিএডি চূড়ান্ত করার পর এর ভ্যালিডেশন সম্পন্ন করা হবে। এরপর এনএসডিএর নিবন্ধিত স্কিলস ট্রেনিং প্রোভাইডারদের (এসটিপি) মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর সুযোগ তৈরি হবে।

প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি মানসম্মত প্রশিক্ষণ উপকরণ ব্যবহার করে কর্মীদের হাতে-কলমে দক্ষ করে তোলার সুযোগ থাকবে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের নির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন চালু করা গেলে বাংলাদেশের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় নতুন শ্রমবাজার হতে পারে। বিশেষ করে মাংস উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে দক্ষতার স্বীকৃতি থাকলে কর্মীদের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান দীর্ঘদিন ধরে মূলত নির্মাণ, সেবা, গৃহকর্ম ও বিভিন্ন কারিগরি পেশার ওপর নির্ভরশীল। এর বাইরে কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণভিত্তিক বিশেষায়িত দক্ষতার চাহিদাও তৈরি হচ্ছে। ‘হালাল বুচারি অ্যান্ড মিট প্রসেসিং’ নিয়ে এনএসডিএর এই উদ্যোগ সেই বাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের প্রবেশের একটি নতুন পথ তৈরি করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *