জাকাতেকাস সাংস্কৃতিক উৎসবে বাংলাদেশের বিশ্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরলেন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স

মেক্সিকোর ঐতিহাসিক শহর জাকাতেকাসে অনুষ্ঠিত ‘জাকাতেকাস কালচারাল ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’-এ বাংলাদেশের বিশ্ব ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরেছেন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মো. আবদুল্লাহ আল ফরহাদ।

১৪ই   আগস্ট জাকাতেকাসের ঐতিহাসিক ফোয়ের অব তেত্রো কালদেরনে আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ, কালচারাল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডিপ্লোমেসি: আইডেন্টিটি, কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় তিনি অংশ নেন।

আলোচনায় বাংলাদেশের বিশ্ব ঐতিহ্যের তিনটি স্থান এবং ইউনেসকোর স্বীকৃত ছয়টি অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে মেক্সিকান ও আন্তর্জাতিক দর্শকদের অবহিত করেন তিনি।

ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ নগরী, পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ এবং সুন্দরবন। এর মধ্যে প্রথম দুটি সাংস্কৃতিক এবং সুন্দরবন প্রাকৃতিক বিশ্ব ঐতিহ্য।

বাংলাদেশের অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে বাউল গান, জামদানি বয়নশিল্প, পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা, সিলেটের শীতলপাটি বয়নশিল্প, ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র এবং টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি বয়নশিল্প। টাঙ্গাইলের শাড়ি বয়নশিল্প ২০২৫ সালে ইউনেসকোর তালিকায় যুক্ত হয়।

প্যানেলটি সঞ্চালনা করেন মেক্সিকোর ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব মেক্সিকান ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সিটিজের মহাপরিচালক। এতে আরও অংশ নেন দুরাঙ্গো রাজ্যের পর্যটন বিভাগের পরিচালক, জাকাতেকাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, মেক্সিকোতে কাজাখস্তান দূতাবাসের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক এবং আইকমস জর্ডানের পরিচালক।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ঐতিহ্যের পাশাপাশি জাপান, কাজাখস্তান, সার্বিয়া, গুয়াতেমালা, ইউক্রেন ও চেকিয়ার বিশ্ব ঐতিহ্যও তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক কূটনীতি এবং পর্যটনের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়। বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ইউনেসকোর স্বীকৃতি বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশ্ব ঐতিহ্যের তিনটি স্থান ও ছয়টি অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীবন্ত ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে।

উৎসবের বাইরে জাকাতেকাসের মেয়র মিগেল আঞ্জেল ভারেলা পিনেদোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিডিএ মো. আবদুল্লাহ আল ফরহাদ। এ সময় বাংলাদেশ ও মেক্সিকোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

জাকাতেকাস ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত একটি ঐতিহাসিক শহর। সেখানে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার এই আয়োজন দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার একটি সুযোগ তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *