শিল্প নিরাপত্তায় চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ফ্রান্স-ইইউর নতুন উদ্যোগ

বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের শিল্প নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)-এর সহযোগিতায় দুই সপ্তাহব্যাপী ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে।

সোমবার (২৯শে জুন) চট্টগ্রামে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্লোবাল পোর্টস সেফটি (জিপিএস) প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি টিম ইউরোপের একটি যৌথ উদ্যোগ। প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিচ্ছে ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বাস্তবায়ন করছে এক্সপার্টিজ ফ্রান্স।

প্রশিক্ষণে বন্দর এলাকায় শিল্প ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ঝুঁকি শনাক্তকরণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন, সম্ভাব্য দুর্ঘটনার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং নিরাপদ দূরত্ব নির্ধারণ। এসব বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্রবন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর শিল্প নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই প্রশিক্ষণ বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামোকে আরও নিরাপদ ও সুরক্ষিত করার প্রচেষ্টাকে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে ঝুঁকি প্রতিরোধের একটি যৌথ সংস্কৃতি গড়ে তুলবে। এতে একদিকে মানুষের নিরাপত্তা বাড়বে, অন্যদিকে বন্দরের কার্যক্রম আরও দক্ষ ও কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, নিরাপদ, সহনশীল ও আধুনিক বন্দর গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রাষ্ট্রদূত প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের সাফল্য কামনা করেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ফ্রান্সের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড রিস্কস (ইনেরিস) এবং এক্সপার্টিজ ফ্রান্সসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

এই প্রশিক্ষণে বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছেন। ফলে এটি শুধু একটি জাতীয় উদ্যোগ নয়, বরং আঞ্চলিক সহযোগিতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নিরাপত্তা বিষয়ে সমন্বিত সক্ষমতা গড়ে তোলাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

জিপিএস প্রকল্পটি ফ্রান্সের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্লোবাল গেটওয়ে উদ্যোগের অংশ। প্রকল্পটির মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আটটি দেশের ১২টি কৌশলগত বন্দরের নিরাপত্তা, সহনশীলতা ও টেকসই সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এসব বন্দর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে অবস্থিত।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দ্রুত বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের শিল্প নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের এ ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতে নিরাপদ ও দক্ষ বন্দর পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *