বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে নতুন সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট কর্তৃপক্ষ (বিপিপিএ)।
১২ই মে ২০২৬ রাজধানীতে বিপিপিএ’র সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এডিবি’র পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন এডিবি’র পাবলিক সেক্টর ইকোনমিস্ট নিকোলাস জে. উইন্টল। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিপিপিএ’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ।
বৈঠকে সরকারি ক্রয় খাতে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল প্রস্তাবিত “ইনস্টিটিউট অব পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (আইপিপি)” প্রতিষ্ঠা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি হবে বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় বিষয়ক প্রথম বিশেষায়িত শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।
এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে স্ট্র্যাটেজিক প্রকিউরমেন্ট ইউনিট গঠন, সরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি খাতের ইকোনমিক অপারেটরদের দক্ষতা বৃদ্ধি, টেকসই সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা চালু, ই-জিপি সম্প্রসারণ এবং স্ট্যান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্ট হালনাগাদ নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাজার উন্নয়ন, চুক্তি ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সম্পদ বিক্রয় বা অ্যাসেট ডিসপোজাল মডিউল উন্নয়নের বিষয়ও উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।
এডিবি প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে আরও ছিলেন লীলা ধ্যান ম্যালোরি, মোঃ রাসেল পারভেজ, মিকেল অ্যান্ডারসন এবং জানুয়ারী আগবন সানচেজ।
এই সফরটি ছিল এডিবি’র প্রস্তাবিত “পারফর্ম (প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড এনহ্যান্সড রিফর্মস ফর ফিন্যান্সিয়াল ওভারসাইট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ম্যানেজমেন্ট)” কর্মসূচির অংশ। স্কোপিং মিশনের আওতায় প্রতিনিধি দলটি অর্থ বিভাগ, কন্ট্রোলার জেনারেল অব অ্যাকাউন্টস, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও মতবিনিময় করে।
আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে নতুন সুযোগ খুঁজে বের করা। এডিবি মনে করছে, এই আলোচনার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে সরকারি ক্রয় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রমের পথ তৈরি হতে পারে।