বাংলাদেশে নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও সবার জন্য ব্যবহারযোগ্য পাবলিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি দেশের নগর ব্যবস্থাপনা ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
নতুন এই নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো সারা দেশে মানসম্মত পাবলিক টয়লেট সহজলভ্য করা এবং পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা। একই সঙ্গে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক নাগরিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও ব্যবহারবান্ধব টয়লেট নিশ্চিত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই পর্যাপ্ত ও পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেটের অভাব ছিল। বিশেষ করে ব্যস্ত নগর এলাকা, পরিবহন টার্মিনাল, বাজার ও জনসমাগমস্থলে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট না থাকায় সাধারণ মানুষকে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। নারীদের জন্য এই সংকট আরও তীব্র।
নীতিমালায় দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা, টেকসই অর্থায়ন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কার্যকর বাস্তবায়ন হলে এটি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখবে।
নীতিমালা প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠন জানায়, ২০১০ সাল থেকে নিরাপদ পাবলিক স্যানিটেশন নিয়ে তারা বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করে আসছে। এই দীর্ঘ যাত্রায় যারা সহযোগিতা, পরামর্শ ও সমর্থন দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পাবলিক টয়লেট কেবল একটি অবকাঠামো নয়; এটি মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও অন্তর্ভুক্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই সবার জন্য নিরাপদ ও সহজপ্রাপ্য স্যানিটেশন নিশ্চিত করা নাগরিক অধিকারের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, নীতিমালাটি বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।