গাজায় বাংলাদেশের ফ্লোটিলা অভিযানের গল্প নিয়ে ঢাকায় আলোকচিত্র প্রদর্শনী

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা বাংলাদেশের তিন ফ্লোটিলা অংশগ্রহণকারীর অভিজ্ঞতা নিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘ফ্লোটিলা: বাংলাদেশ সেইলস ফর গাজা’।

শুক্রবার (১৪ই আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর দৃক পাঠ ভবনে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে দৃক পিকচার লাইব্রেরি। প্রদর্শনীতে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি জুবায়ের ইসলাম খান ও মোহাম্মদ আলী (লিয়াকত) এবং বাংলাদেশের আলোকচিত্রী শহীদুল আলমের গাজামুখী যাত্রার বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে।

তিনজনই ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গাজার ওপর ইসরায়েলি অবরোধ চ্যালেঞ্জ করার উদ্যোগে অংশ নেন। তাঁরা পৃথক নৌযানে করে গাজার উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস. ওয়াই. রমাদান। ছিলেন দৃকের মহাব্যবস্থাপক ও প্রদর্শনীর কিউরেটর এ এস এম রেজাউর রহমান। ফ্লোটিলার তিন অংশগ্রহণকারীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রদর্শনীতে রয়েছে আলোকচিত্র, ভিডিও ফুটেজ এবং বিভিন্ন আর্কাইভাল উপকরণ। এসব উপকরণের মাধ্যমে গাজায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টার বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হয়েছে।

প্রদর্শনীতে দেখানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নৌযান থামিয়ে দেয়। এরপর তাঁদের আটক করা হয় এবং ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের কাৎজিওত কারাগারে রাখা হয়।

ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন দীর্ঘদিন ধরে গাজার অবরোধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন নৌযাত্রার আয়োজন করে আসছে। এসব অভিযানের লক্ষ্য গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং অঞ্চলটির ওপর আরোপিত অবরোধের বিষয়ে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

দৃকের এই প্রদর্শনীতে ফ্লোটিলার সেই যাত্রাকে শুধু রাজনৈতিক বা মানবিক উদ্যোগ হিসেবে নয়, অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দৃষ্টিকোণ থেকেও তুলে ধরা হয়েছে। নৌযাত্রা, আটকের মুহূর্ত এবং পরবর্তী বন্দিত্বের স্মৃতিও এতে স্থান পেয়েছে।

প্রদর্শনী উপলক্ষে শনিবার, ১৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় একই ভেন্যুর লেভেল ৮-এ অনুষ্ঠিত হবে প্যানেল আলোচনা ‘ফ্লোটিলা: বাংলাদেশ সেইলস ফর গাজা’।

আলোচনায় অংশ নেবেন ফ্লোটিলার তিন বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারী। তিনটি পৃথক নৌযানে থাকা এই তিনজন তাঁদের অভিজ্ঞতা সরাসরি তুলে ধরবেন। গাজামুখী যাত্রা, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌযান থামিয়ে দেওয়া এবং আটকের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁরা কথা বলবেন।

আলোকচিত্র ও নথির মাধ্যমে প্রদর্শনীটি গাজার সংকটের সঙ্গে বাংলাদেশের নাগরিকদের সংহতির একটি দৃশ্যমান দলিল হিসেবেও উপস্থাপিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *