দুর্যোগপ্রবণ উপকূলে নারীর নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করছে ‘উইমেন লিড ইন ইমার্জেন্সিস’

কেয়ার বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ কৌশলগত উপদেষ্টা আর্ল আর. মিলারের সঙ্গে নারী নেত্রী ও অংশীদার সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ

দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় জনগোষ্ঠীতে নারীর নেতৃত্ব বিকাশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সামাজিক সহনশীলতা জোরদারে কাজ করছে ‘উইমেন লিড ইন ইমার্জেন্সিস’ উদ্যোগ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, নিজেদের অধিকার ও মতামত তুলে ধরা এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

জাগো নারী বাস্তবায়িত এ উদ্যোগে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে কেয়ার বাংলাদেশ। অর্থায়ন করছে ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা।

সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং কেয়ার বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ কৌশলগত উপদেষ্টা আর্ল আর. মিলার এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত নারী নেত্রী, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্য ও অংশীদার সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি নারীদের নেতৃত্ব, দৃঢ়তা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।

সাক্ষাৎকালে তিনি নারীদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পারেন। এসব পরিকল্পনার লক্ষ্য স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সমাধানে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

উদ্যোগটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পরিবারের পরিচর্যার দায়িত্ব নারী ও পুরুষের মধ্যে আরও ন্যায্যভাবে বণ্টনের প্রচার। এর পাশাপাশি নিরাপদ পানির মতো জরুরি সেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতেও কাজ করা হচ্ছে।

দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় এলাকায় নারীরা প্রায়ই দুর্যোগ মোকাবিলা, পরিবারের সুরক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের অংশগ্রহণের সুযোগ সব সময় সমান থাকে না। এ পরিস্থিতিতে নারীদের নেতৃত্বের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পরিকল্পনা প্রণয়নে তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উদ্যোগটির অন্যতম লক্ষ্য।

নারীদের নেতৃত্বে স্থানীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, পরিচর্যার দায়িত্বে ন্যায্যতা এবং জরুরি সেবাপ্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত সক্ষমতা জোরদার করার চেষ্টা করছে উদ্যোগটি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নারীদের নেতৃত্বের সুযোগ বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় সমস্যা সমাধানে তাঁদের অংশগ্রহণ আরও কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক সংহতি জোরদার হলে দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে জনগোষ্ঠীর সক্ষমতাও বাড়তে পারে।

 

 

আরো পড়ুন : নারীর কর্মসংস্থান বাড়িয়ে বাংলাদেশে হতে পারে পরবর্তী কর্মসংস্থান বিপ্লব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *