বাংলাদেশের পরবর্তী কর্মসংস্থান বিপ্লব নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর মধ্য দিয়ে ঘটতে পারে। উৎপাদন ও শিল্প খাতে নারীর আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চলে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং আরও বেশি নারীকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারের সঙ্গে এক আলোচনায় এসব কথা বলেন।
তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগের ওপরও অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাঁর মতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নেও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন।
সম্প্রতি কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাড়াতে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিতুমীর। তিনি বলেছেন, বিনিয়োগকে উৎপাদনের দিকে পরিচালিত করার মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত আলোচনায় দেশটির বিস্তৃত ও সর্বজনীন করব্যবস্থার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বাংলাদেশের সঙ্গে এসব ক্ষেত্রে ভালো চর্চা ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার আগ্রহের কথাও জানান তিনি। বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন তিতুমীর।
বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার পরিসর বাড়ানো বর্তমানে সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অন্যতম বিষয়। তিতুমীর এর আগে জানিয়েছিলেন, করের হার না বাড়িয়ে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
আলোচনায় বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের বিষয়টিও উঠে আসে। তিতুমীর বলেন, ডেনমার্ক বাংলাদেশের একটি বিশ্বস্ত অংশীদার। দুই দেশ টেকসই সমৃদ্ধির অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করছে।
বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে। গত পাঁচ দশকে দুই দেশের সহযোগিতা উন্নয়ন সহায়তার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সবুজ প্রবৃদ্ধি, জলবায়ু, মানবাধিকার ও সুশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে।
ডেনমার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিনিয়োগ ও শিল্প খাতে দুই দেশের যোগাযোগ বেড়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্পে টেকসই উন্নয়ন, জ্বালানি দক্ষতা ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিয়ে সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
নারীর কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের বিষয়টি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে তিতুমীরও নারী ও যুবকদের কর্মসংস্থান এবং উৎপাদনশীল খাতকে অর্থনৈতিক নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।