গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলাজনিত ঘটনায় আটকে পড়া বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রীদের শেষ দলের ৪০ জন দেশে ফিরেছেন। রোববার (২৫শে অক্টোবর) দুপুরে জেদ্দা থেকে তাঁরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তবে ওই ঘটনায় আহত সাতজন এখনো সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দেশে ফেরা ওমরাহযাত্রীদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (হজ) মো. লোকমান হোসেন, মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফরহাদ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)-এর নির্দেশনায় তাঁদের অভ্যর্থনার ব্যবস্থা করা হয়।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটকে পড়া ওমরাহযাত্রীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সার্বিক সমন্বয় করা হয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থানকালে ধর্মমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে সৌদি আরবে অবস্থানরত যাত্রীদের দুই দিনের খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়। লাগেজ না পাওয়ায় যাঁরা সমস্যায় পড়েছিলেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও দেওয়া হয়। দেশে ফেরার পর যাত্রীদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের সিরাজগঞ্জ শহরে পৌঁছে দিতে যানবাহনের ব্যবস্থাও করা হয়। এসব ব্যয় ধর্মমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বহন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
দেশে ফেরার পর ওমরাহযাত্রীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কাফেলার নেতা মুয়াল্লিম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সৌদি আরবে অবস্থানকালে ধর্মমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছেন। নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও জানান, লাগেজ না থাকায় যাত্রীরা নানা সমস্যায় পড়েছিলেন। এ পরিস্থিতিতে তাঁদের খাবার, পোশাক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়। দেশে ফেরার পর আপ্যায়ন এবং সিরাজগঞ্জে পৌঁছানোর জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করায় তাঁরা ধর্মমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ওমরাহযাত্রীরা ধর্মমন্ত্রীর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। আল্লাহর মেহমানদের সেবায় তিনি যেন আরও বেশি কাজ করতে পারেন, সে জন্যও তাঁরা দোয়া করেন।
এ ছাড়া প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ায় রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, মক্কা ও মদিনার হজ মিশন, সৌদি আরবের রাজকীয় সরকার এবং সৌদি এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তাঁরা।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর রিয়াদে হামলার ঘটনায় বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রীদের একটি দল আটকে পড়ে। ওই দলের সাতজন আহত হন। তাঁরা বর্তমানে রিয়াদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের দেশে ফেরার বিষয়ে পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত বা সময়সূচি জানানো হয়নি।
আরো পড়ুন : ঈদে মিলাদুন্নবী: নবীপ্রেম কি ফিরছে শহুরে বাংলাদেশের প্রকাশ্য জীবনে?