প্রযুক্তি, পর্যটন ও অন্যান্য সৃজনশীল খাতে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে এশিয়ার দেশগুলোর জনগণ, ব্যবসায়ী, প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
কাঠমান্ডুর একটি স্থানীয় হোটেলে গতকাল অনুষ্ঠিত ‘এশিয়ান প্রফেশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর সপ্তম আসরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।
‘সিজন মিডিয়া’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নেপালের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাম বরণ যাদব। বাংলাদেশ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, জাপান ও কোরিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এতে অংশ নেন। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বেশ কয়েকজনকে অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেওয়া হয়।
বক্তব্যের শুরুতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম তৈরির জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বিশেষ করে তরুণদের নিজেদের সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখতে উৎসাহিত করে। কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ় সংকল্প, উদ্ভাবন ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখার প্রেরণাও তৈরি করে এসব উদ্যোগ।
বিশ্ব অর্থনীতিতে এশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত প্রযুক্তি, পর্যটন ও অন্যান্য সৃজনশীল খাতে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জনগণ, ব্যবসায়ী, প্রতিষ্ঠান, প্রিন্ট ও টেলিভিশন মিডিয়ার সাংবাদিক এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূতের মতে, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে এশিয়ার সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। সৃজনশীল শিল্পেও এ সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নেপালে উৎকর্ষকে স্বীকৃতি ও উদযাপনের দীর্ঘদিনের চর্চার প্রশংসা করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। তিনি নেপালের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং দেশটির সমাজের সৌন্দর্য ও দৃঢ়তার কথাও তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, নেপালের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, বুদ্ধের কালজয়ী শিক্ষা এবং দেশটির অনন্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, বিনয়, পারস্পরিক স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধাবোধের একটি গভীর দর্শনকে সমৃদ্ধ করেছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন মো. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য বিদ্যমান সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও নেপালের অভিন্ন উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ এবং গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বের কথা তুলে ধরেন।
‘এশিয়ান প্রফেশনাল অ্যাওয়ার্ড’ নেপালের গণমাধ্যম অঙ্গনে একটি মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। এবারের অনুষ্ঠানে শিল্পখাতে দীর্ঘদিনের অবদান ও শিল্প নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে পঞ্চকন্যা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও শিল্পপতি প্রেম বাহাদুর শ্রেষ্ঠকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিন বাংলাদেশিকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তারা হলেন মিম শরৎ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আলহাজ মো. সোহাগ, দৈনিক খবরের কাগজের প্রধান ফটোসাংবাদিক ইন্দ্রজিৎ কুমার ঘোষ এবং আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফার মো. শরীফ সারোয়ার।
আলহাজ মো. সোহাগ পান ‘আউটস্ট্যান্ডিং বিজনেস লিডারশিপ অ্যান্ড সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি অ্যাওয়ার্ড’। ইন্দ্রজিৎ কুমার ঘোষকে দেওয়া হয় ‘এক্সিলেন্স ইন ফটো জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ড’। আর মো. শরীফ সারোয়ার পান ‘ওশান অ্যান্ড আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’।
অনুষ্ঠানে নেপাল ফটোগ্রাফি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ‘সিজন মিডিয়া ’-এর চেয়ারম্যান প্রদীপ রাজ আন্তোসহ নেপাল ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।