আধুনিক রেটিনা সার্জারিতে বাংলাদেশের অন্যতম পথিকৃৎ বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. নিয়াজ আবদুর রহমান পেয়েছেন এপিভিআরএস সেবা পুরস্কার ২০২৬ । ভিট্রিও-রেটিনা চিকিৎসা ও সার্জারিতে দীর্ঘদিনের অবদান, পেশাগত নেতৃত্ব এবং নিজ দেশে এই বিশেষায়িত চিকিৎসাক্ষেত্রের বিকাশে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৮শে আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে অনুষ্ঠিত এপিভিআরএস গোল্ড কোস্ট কংগ্রেস’২০২৬-এর বিশেষ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ডা. নিয়াজ আবদুর রহমানের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এশিয়া-প্যাসিফিক ভিট্রিও-রেটিনা সোসাইটি (এপিভিআরএস) এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভিট্রিও-রেটিনা বিশেষজ্ঞদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পেশাজীবী সংগঠন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া পুরস্কারের সনদে ডা. নিয়াজ আবদুর রহমানের নিজ দেশে ভিট্রিও-রেটিনাল ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী ও বিশিষ্ট অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
রেটিনা চোখের ভেতরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সূক্ষ্ম একটি অংশ। চোখের পেছনে অবস্থিত এই আলোকসংবেদনশীল স্তরটি দৃষ্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রেটিনায় নানা জটিল রোগ দেখা দিতে পারে। এসব রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্র হলো ভিট্রিও-রেটিনা।
বাংলাদেশে আধুনিক ভিট্রিও-রেটিনা চিকিৎসা ও সার্জারির বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন ডা. নিয়াজ আবদুর রহমান। বিশেষায়িত এই চিকিৎসাক্ষেত্রে তাঁর পেশাগত কর্মকাণ্ড দেশের রেটিনা চিকিৎসার সক্ষমতা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসার প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ আই হাসপাতাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
ভিট্রিও-রেটিনা সার্জারি চক্ষু চিকিৎসার অন্যতম জটিল ও বিশেষায়িত শাখা। এই ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশে এ ধরনের চিকিৎসার পরিসর সম্প্রসারণে ডা. নিয়াজ আবদুর রহমানের দীর্ঘ পেশাগত ভূমিকা রয়েছে।
এপিভিআরএস-এর এই সম্মাননা সেই অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের ভিট্রিও-রেটিনা চিকিৎসা ও সার্জারির অগ্রগতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
ডা. নিয়াজ আবদুর রহমানের এই অর্জন বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পেশাগত অবদানের বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষায়িত চিকিৎসার একটি ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের কাজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ায় দেশের চিকিৎসা খাতেও এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।