ভূমি সেবাকে স্বচ্ছ, আধুনিক ও জনবান্ধব করতে ভূমি ব্যবস্থাপনা স্বয়ংক্রিয়করণ প্রকল্পের কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। একই সঙ্গে প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে তথ্যের নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় তাঁরা এসব নির্দেশনা দেন। সভার আলোচ্য বিষয় ছিল ভূমি ব্যবস্থাপনা স্বয়ংক্রিয়করণ প্রকল্প, তথ্য অন্তর্ভুক্তির অগ্রগতি ও এ কাজের অভিজ্ঞতা।
সভায় ভূমিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূমি সেবার মান উন্নয়ন এবং সেবাগ্রহীতাদের স্বার্থ রক্ষা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। প্রযুক্তির সুবিধা যেন দেশের প্রতিটি নাগরিক সহজে পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে ভুল, অনিয়ম ও অসংগতি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে।
সভায় জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতিনিধিদলের সদস্য মো. আতিকুল হক ও মো. কামাল হোসাইন প্রকল্পের কৌশলগত দিক এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রান্তিক ভূমি মালিকদের সেবার আওতায় আনা এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের তথ্য অন্তর্ভুক্তির কাজে স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ভূমি মন্ত্রণালয়কে কারিগরি সহায়তা এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখার কথা জানায় জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি।
সভায় ভূমি ব্যবস্থাপনার তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেওয়া হয়। প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. কামাল হোসাইন এবং সংস্থাটির অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি কার্যক্রমের জ্যেষ্ঠ জাতীয় পরামর্শক ও সাবেক মহাপরিচালক আতিকুল হক মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নচিত্র তুলে ধরেন।
উপস্থাপনায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পরীক্ষামূলক প্রস্তুতিমূলক কাজ, একই বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষামূলক কার্যক্রম এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ পরিচালিত হয়েছে। এসব কার্যক্রম ঢাকা বিভাগের তিন জেলার ৩২টি উপজেলা বা ভূমি সার্কেলের ১১২টি ভূমি কার্যালয়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও তথ্য অন্তর্ভুক্তির কাজে নিয়োজিত কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন ও উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য আনা এবং নির্ভুলভাবে তথ্যের মানচিত্রায়ণের বিষয়েও কাজ করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুরোনো হাতে লেখা নামজারি খতিয়ানের অনুলিপি সংগ্রহ, জমির হোল্ডিং ও খতিয়ানের তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাচাই করা তথ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভূমি মালিকদের ব্যক্তিগত ডিজিটাল পরিচিতি তৈরির সুবিধার্থে প্রতিটি ইউনিয়নে পাঁচ দিনব্যাপী বিশেষ সেবা শিবির পরিচালনার বিষয়টি সভায় তুলে ধরা হয়। এসব শিবিরের মাধ্যমে ভূমি মালিকদের তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট সেবার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে।
সভায় ভূমিমন্ত্রী ও ভূমি প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব এমদাদুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্রকল্পের অগ্রগতি, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও প্রতিনিধিদলের পর্যবেক্ষণ শোনেন।
সভায় জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতা, সেবার মান এবং জবাবদিহি বজায় রেখে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ভূমি ব্যবস্থাপনা স্বয়ংক্রিয়করণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ভূমিসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে মাঠপর্যায়ে তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের জন্য সেবা সহজলভ্য করাই হবে প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ দিক।