জাইকার সহায়তায় সাত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক রোগ নির্ণয়ব্যবস্থা

জাইকা চুক্তি

 

বাংলাদেশের সাতটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক রোগ নির্ণয়ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। এ উদ্যোগের আওতায় হাসপাতালগুলোতে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। এর ফলে রোগ শনাক্তকরণে সক্ষমতা বাড়বে এবং চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

মাতৃ, নবজাতক ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে ইমেজিং বা চিকিৎসা-চিত্রভিত্তিক রোগ নির্ণয়ের জন্য ভবন নির্মাণের পাশাপাশি বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় সাতটি হাসপাতাল হলো—

  • শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা

  • খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

  • রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

  • রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

  • চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

  • শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল

  • এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট

হাসপাতালগুলোতে কম্পিউটারনির্ভর স্তরভিত্তিক চিত্রায়ণ যন্ত্র, চৌম্বকীয় অনুরণন চিত্রায়ণ যন্ত্র, ডিজিটাল এক্স-রে, স্তন ক্যানসার শনাক্তকরণের বিশেষ চিত্রায়ণ যন্ত্র এবং শব্দতরঙ্গভিত্তিক পরীক্ষার যন্ত্র স্থাপন করা হবে।

এ ছাড়া হৃদ্‌যন্ত্রের রক্তনালি পরীক্ষার জন্য বিশেষ পরীক্ষাগার এবং পরিপাকতন্ত্রের ভেতরের অবস্থা দেখার যন্ত্র যুক্ত করা হবে। চিকিৎসার জন্য তৈরি ছবি সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও আদান-প্রদানের ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল রোগ শনাক্ত করার সুযোগ বাড়বে।

১৫ অক্টোবর এ প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অধ্যাপক চিকিৎসক তারিকুল ইসলাম। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ফুজিফিল্ম হেলথকেয়ার এশিয়া প্যাসিফিক ও ফুজিফিল্ম মিডল ইস্টের যৌথ উদ্যোগের প্রতিনিধি অতুল আগরওয়াল এবং এরবিস ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের বাংলাদেশ বিষয়ক ব্যবস্থাপক সৈয়দ জহির উদ্দিন মাহমুদ।

জাইকার সহায়তায় বাস্তবায়িত এ উদ্যোগের লক্ষ্য সরকারি হাসপাতালগুলোতে উন্নত রোগ নির্ণয়সেবা সম্প্রসারণ করা। তবে যন্ত্রপাতি স্থাপনের পাশাপাশি সেগুলোর কার্যকর ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দক্ষ জনবল নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকল্পটি প্রত্যাশিতভাবে বাস্তবায়িত হলে বিভাগীয় পর্যায়ে উন্নত রোগ নির্ণয়ের সুযোগ বাড়বে। এতে জটিল রোগের পরীক্ষা করাতে দূরবর্তী স্থান থেকে রাজধানীতে যাওয়ার প্রয়োজন কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগও বিস্তৃত হতে পারে।

 

আরো পড়ুন :  ঢাকার বস্তিতে যক্ষ্মা শনাক্তে জাপানের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ সেবা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *