দ্বৈত নাগরিকত্ব, সংবিধান ও হুমায়ুন কবির: বিতর্কের কেন্দ্রে আসলে কী?

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিতর্ক

হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কটি শেষ পর্যন্ত একটি মৌলিক সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে এনেছে—বিদেশি নাগরিকত্ব থাকা অবস্থায় কোনো বাংলাদেশি নাগরিক সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হতে পারেন কি না।

প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে হলে আবেগ, রাজনৈতিক বক্তব্য কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয়ের বদলে সংবিধানের ভাষার দিকে তাকাতে হবে।

এবং সেখানে কয়েকটি বিষয় বেশ স্পষ্ট। তবে একই সঙ্গে একটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ: অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং প্রমাণিত তথ্যকে এক করে দেখা যাবে না।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(১) অনুযায়ী, বাংলাদেশের নাগরিক এবং ২৫ বছর বয়স পূর্ণ করা ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য। তবে এই যোগ্যতার ওপর ৬৬(২)-এ একাধিক অযোগ্যতার বিধান রয়েছে।

এর মধ্যে ৬৬(২)(গ)-তে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে অথবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বা সদস্য থাকার অযোগ্য হবেন।

তবে এখানেই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান রয়েছে।

৬৬(২ক)-তে বলা হয়েছে, জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের পর দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে সেই বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে, সংবিধানের উদ্দেশ্যে তাকে বিদেশি নাগরিকত্ব অর্জনকারী হিসেবে গণ্য করা হবে না।

অর্থাৎ ৬৬(২ক)-এর অর্থ দ্বৈত নাগরিকরা এমপি হতে পারবেন নয়। বরং এর অর্থ হলো, নির্দিষ্ট শর্তে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই অযোগ্যতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। এই পার্থক্যটি বর্তমান বিতর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

সংবিধানের ৫৬(২) অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন। তাঁদের অন্তত ৯০ শতাংশ সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে হতে হবে এবং সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নেওয়া যেতে পারে, যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য।

অর্থাৎ সংসদের বাইরে থেকে কাউকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করার সাংবিধানিক সুযোগ আছে। কিন্তু সেই ব্যক্তিকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে।

ফলে সংসদ সদস্য নন এমন কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রে ৬৬ অনুচ্ছেদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিধান প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। এ কারণেই শুধু ‘তিনি তো এমপি নন’—এই যুক্তিতে বিদেশি নাগরিকত্বসংক্রান্ত সাংবিধানিক প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

হুমায়ুন কবির ২১শে আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

এর পর তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২৪শে আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না—সে বিষয়ে সরাসরি উত্তর না দিয়ে নিজের বাংলাদেশি পরিচয়ের ওপর জোর দেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তাঁর বক্তব্যের এই অংশটি প্রকাশ করেছে।

পরদিন, ২৫শে আগস্ট আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এবং সংবিধান মেনেই তাঁকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ সরকারের প্রকাশ্য অবস্থান এখন স্পষ্ট: হুমায়ুন কবির নিয়োগের আগে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এবং তাঁর নিয়োগে আইনগত কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

এখন পরবর্তী প্রশ্নটি হলো—এই দাবির প্রামাণ্য নথি কী?

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যকে উপেক্ষা করার কারণ নেই। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। কিন্তু একটি সাংবিধানিক যোগ্যতার প্রশ্নে রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সরকারি নথি এক জিনিস নয়।

হুমায়ুন কবির কবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, তার কার্যকর তারিখ কী এবং সেই ত্যাগ তাঁর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে কার্যকর হয়েছিল কি না—এই তথ্যগুলোই মূলত বিতর্কের আইনি কেন্দ্র।

প্রকাশ্য সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য পাওয়া গেলেও নাগরিকত্ব ত্যাগের মূল সরকারি নথি প্রকাশ করা হয়েছে—এমন প্রামাণ্য দলিল এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নাই।

হুমায়ুন কবিরের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা তাই অস্বাভাবিক কিছু নয়। একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর সাংবিধানিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে গণমাধ্যমের সেই প্রশ্ন করার অধিকার রয়েছে—বিশেষ করে  প্রশ্নটি যখন সরাসরি সংবিধানের একটি নির্দিষ্ট বিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত।

অন্যদিকে, দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিরও এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়ার রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায় রয়েছে। কারণ এটি ব্যক্তিগত দেশপ্রেমের পরীক্ষা নয়।

‘আমি বাংলাদেশি’—এটি নাগরিক পরিচয়ের একটি বক্তব্য। কিন্তু সাংবিধানিক প্রশ্নের উত্তর হলো: বিদেশি নাগরিকত্ব ছিল কি না এবং থাকলে কবে তা ত্যাগ করা হয়েছে।

তবে কোনো গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বিদ্রূপ বা রূঢ়তা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির জন্য ভালো উদাহরণ নয়। ব্যক্তি বদলে যায়, কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতি দীর্ঘস্থায়ী হয়।

‘বিদেশি নাগরিক’ মানেই কি চিরস্থায়ী অযোগ্যতা? এখানেও একটি ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে।

সংবিধানের ৬৬(২ক) দেখাচ্ছে যে বিদেশি নাগরিকত্ব অর্জন করা জন্মসূত্রে বাংলাদেশি ব্যক্তির জন্য আজীবন অযোগ্যতা নয়। নির্দিষ্ট শর্তে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে তিনি ৬৬ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্যে সেই বিদেশি নাগরিকত্ব অর্জনকারী হিসেবে গণ্য হবেন না।

তাই বিতর্কের প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়— তিনি কোনোদিন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন কি না?

বরং প্রশ্নটি হলো— ‘প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বহাল রেখেছিলেন কি না?’

এই দুই প্রশ্ন এক নয়।

কেউ কেউ বলছেন, ৬৬(২)(গ)-এর বিদেশি নাগরিকত্বসংক্রান্ত অংশ বাদ দিলেই দ্বৈত নাগরিকদের সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তাত্ত্বিকভাবে সংবিধানের কোনো বিধান পরিবর্তন করা সম্ভব। তবে এটি সাধারণ আইন পরিবর্তনের মতো নয়।

সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধানের কোনো বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা বিলোপ করতে সংসদীয় আইন প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট বিল সংসদের মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হতে হবে।

একই সঙ্গে ৭(খ) সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ, তৃতীয় ভাগের কিছু বিধান এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত বিধানকে সংশোধনের বাইরে রাখার কথা বলেছে।

অতএব ৬৬(২)(গ) পরিবর্তনের প্রশ্ন উঠলে শুধু রাজনৈতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়, সংশোধনটির সাংবিধানিক সীমাও বিবেচনায় নিতে হবে।

তবে রাজনৈতিকভাবে এই বিধান নিয়ে বিতর্কের সুযোগ আছে।

কেউ মনে করতে পারেন, বৈশ্বিক নাগরিকত্বের বাস্তবতায় দ্বৈত নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো উচিত। আবার অন্য পক্ষের যুক্তি হতে পারে—সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে থাকেন; তাঁদের বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকত্বের সম্পর্ক স্বার্থের সংঘাত ও আনুগত্যের প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

অতএব বিষয়টি শুধু ‘বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের সুযোগ দেওয়া হবে কি না’—এই প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় আনুগত্য ও সাংবিধানিক জবাবদিহির প্রশ্নও জড়িত।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনায় আরও একটি দাবি উঠেছে—রাজনৈতিক সংকটের সময় বিদেশি নাগরিকরা নিজ নিজ রাষ্ট্রের সহায়তায় বাংলাদেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বাড়তি সুবিধা পান।

কোনো কোনো ব্যক্তির বিদেশি নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশ ত্যাগের দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক আলোচনায় রয়েছে।

কিন্তু নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘অমুক দেশ নিজ নাগরিককে উদ্ধার করে নিয়ে গেছে’—এমন বক্তব্য প্রমাণ করতে প্রত্যেক ঘটনার আলাদা সরকারি বা কূটনৈতিক তথ্য প্রয়োজন।

বিদেশি নাগরিকত্ব একজন ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের একটি অতিরিক্ত আইনগত সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে বিদেশি রাষ্ট্র বাংলাদেশের আইন বা বিচারিক এখতিয়ার অগ্রাহ্য করে কাউকে নিয়ে যেতে পারে।

কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের আইনে অভিযুক্ত বা গ্রেপ্তার হলে তাঁর বিদেশি নাগরিকত্ব থাকলেও বাংলাদেশের এখতিয়ার স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে বলা হচ্ছে, তিনি ব্রিটিশ ও আইরিশ নাগরিক হয়েও কানাডার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।

তথ্যটি অসম্পূর্ণ।

কার্নি জন্মসূত্রে কানাডীয়। তিনি আইরিশ নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন পারিবারিক সূত্রে এবং ২০১৮ সালে ব্রিটিশ নাগরিকত্বও অর্জন করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি ব্রিটিশ ও আইরিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার মুখপাত্র ২০২৫ সালের এপ্রিলে নিশ্চিত করেছিলেন যে শপথ নেওয়ার আগেই তিনি দুই বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন।

অতএব কার্নির উদাহরণ বাংলাদেশের ৬৬ অনুচ্ছেদের বিপরীত কোনো নজির নয়।

বরং একটি নির্দিষ্ট অর্থে এটি একই নীতির সঙ্গে তুলনীয়—গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে যাওয়ার আগে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করা।

তবে কানাডার সাংবিধানিক ও নির্বাচনী আইন বাংলাদেশের সংবিধানের মতো নয়। তাই দুই দেশের ব্যবস্থাকে সরাসরি এক করে দেখা ঠিক হবে না। অতএব কার্নির ঘটনা বাংলাদেশের ৬৬ অনুচ্ছেদের বিপরীত কোনো নজির নয়।

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাদের বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু কোনো অভিযোগকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণিত সাংবিধানিক লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

কোনো ব্যক্তি সত্যিই বিদেশি নাগরিক ছিলেন কি না, কখন নাগরিকত্ব অর্জন বা ত্যাগ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সময়ে তিনি কোন সাংবিধানিক পদে ছিলেন—এসব যাচাই করতে সরকারি নথি প্রয়োজন।

তাই অতীতের নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে ‘সংবিধান লঙ্ঘনকারী’ হিসেবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে দলিলভিত্তিক যাচাই জরুরি।

একই সতর্কতা বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সরকারকে নথি দিয়ে জবাব দিতে হবে। বিরোধী দল বা নাগরিক সমাজের অভিযোগ থাকলে তাঁদেরও প্রমাণ দিতে হবে।

হুমায়ুন কবিরের যোগ্যতা, শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ড বা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আলাদা আলোচনা হতে পারে। বিদেশে পড়াশোনা করা, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা কিংবা বিদেশে পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করা কোনো অপরাধ নয়। বরং একজন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর জন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অনেক ক্ষেত্রে সম্পদ হতে পারে।

কিন্তু দক্ষতা সাংবিধানিক যোগ্যতার বিকল্প নয়।

আবার কেউ সংবিধানের শর্ত পূরণ করলে তাঁর বিদেশে থাকার ইতিহাসকে শুধু ‘বিদেশি’ তকমা দিয়ে অযোগ্যও করা যায় না। এই কারণে হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে বিতর্কের সবচেয়ে যৌক্তিক সমাপ্তি খুব সহজ একটি প্রক্রিয়ায় হতে পারে।

সরকার তাঁর বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রাসঙ্গিক প্রমাণ প্রকাশ করবে।

যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে তিনি নিয়োগের আগে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, তাহলে ৬৬(২ক)-এর আলোকে বিদেশি নাগরিকত্বসংক্রান্ত অযোগ্যতার প্রশ্নটি অনেকটাই নিষ্পত্তি হয়ে যায়।

আর যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে নিয়োগের সময়ও তিনি ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন, তাহলে ৬৬(২)(গ), ৬৬(২ক) এবং ৫৬(২)-এর আলোকে তাঁর নিয়োগের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রশ্ন উঠতে পারে।

সুতরাং বিতর্কের জায়গাটি দেশপ্রেম বনাম বিদেশপ্রেম নয়

এটি মূলত আইন, সময় এবং নথির প্রশ্ন

বিদেশি নাগরিকত্ব ছিল কি না, আর থাকলে কখন তা ত্যাগ করা হয়েছে—এই দুই তথ্যই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি হওয়া উচিত।

রাষ্ট্রে সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে সরকারকে যেমন সংবিধান মানতে হবে, তেমনি নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকেও অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণের ওপর দাঁড়াতে হবে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *