ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতের দুরবস্থা এবং সরকারি ব্যয়নীতি নিয়ে অসন্তোষ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ, শ্রমিক সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের কর্মীদের মধ্যে। গত ১৭ই অক্টোবর দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। ঐতিহাসিক নগর ভবনে অগ্নিসংযোগ, দোকানপাটে লুটপাট এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
একই সময়ে ইউরোপের সামনে রয়েছে সরকারি ঋণের চাপ, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং রাশিয়াকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতাও পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এসব পরিস্থিতির সমন্বিত প্রভাবে ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে চলমান অস্থিরতাকে বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হিসেবে চিহ্নিত করার মতো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো নেই।
ফ্রান্সে সাম্প্রতিক আন্দোলনের সূত্রপাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো এবং শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় না করার অভিযোগ থেকে। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্য, মজুরি এবং সরকারি ব্যয়সংকোচন নিয়ে অসন্তোষ।
গত ১৭ই অক্টোবর প্যারিস, মার্সেই, লিওঁ ও লিমোজসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। আয়োজকদের দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল আট লাখের কাছাকাছি।
বিক্ষোভের বড় অংশ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি স্থানে সহিংসতা ঘটে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পাশাপাশি বিভিন্ন দোকান ও সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ফরাসি সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাগুলোতে এক হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয় এবং দেড় শতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে লিমোজ শহরে। সেখানে ঐতিহাসিক নগর ভবনে আগুন লাগার পর ভবনটির ছাদের বড় অংশ ধসে পড়ে। উনিশ শতকে নির্মিত ভবনটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। লিওঁতেও পর্যটন কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। মার্সেইয়ে বিক্ষোভকারীদের একটি দল নগর ভবনে প্রবেশ করে।
প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু সহিংসতার জন্য উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধীদের দায়ী করেছেন। তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সব মানুষকে একই রাজনৈতিক পরিচয়ে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।
ফ্রান্সের অস্থিরতার পেছনে অর্থনৈতিক চাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকারি ঋণ বৃদ্ধি, বাজেট ঘাটতি এবং জনসেবার ব্যয় নিয়ে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় বাড়লে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতে অর্থ বরাদ্দের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।
তবে শিক্ষা খাতের সংকটকে শুধু পেনশন ব্যয়ের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যথেষ্ট নয়। শিক্ষক নিয়োগ, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, সরকারি অর্থের বণ্টন এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্রান্সে অবসরকালীন বয়স বৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক এর একটি উদাহরণ। ২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট মাখোঁর সরকার আইন করে সাধারণ অবসর গ্রহণের ন্যূনতম বয়স ধাপে ধাপে ৬২ থেকে ৬৪ বছরে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়। এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন হয়। বামপন্থী দল ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিরোধিতাও ছিল তীব্র।
পেনশন ব্যবস্থার আর্থিক চাপ নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং কর্মজীবী মানুষের তুলনায় অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেলে পেনশন তহবিলের ওপর চাপ বাড়তে পারে। তখন সরকারকে রাজস্ব বৃদ্ধি, ঋণ গ্রহণ কিংবা অন্য খাতে ব্যয়ের পুনর্বিন্যাসের মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
এ পরিস্থিতিতে তরুণদের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাদের প্রশ্ন, বর্তমান প্রজন্মের করের অর্থের কতটা ব্যয় হচ্ছে ভবিষ্যতের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তায়। অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত মানুষেরাও দীর্ঘ কর্মজীবনের পর আর্থিক নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রাখেন।
সুতরাং বিরোধটি কেবল তরুণ ও বয়স্কদের মধ্যে নয়। এটি সীমিত সরকারি সম্পদের ন্যায্য বণ্টন, প্রজন্মের মধ্যে দায় ভাগাভাগি এবং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতার প্রশ্ন।
ফ্রান্সের বাইরে ইউরোপের কয়েকটি দেশেও শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি নীতি নিয়ে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। বেলজিয়ামে শিক্ষা খাতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ এবং শিক্ষাব্যবস্থার ব্যয়ভার নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ইতালিতে শিক্ষার্থীরা সরকারের শিক্ষা ও সামরিক ব্যয়নীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন করেছে। জার্মানির বার্লিনেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক বিক্ষোভের খবর এসেছে।
তবে এসব আন্দোলনের কারণ ও ব্যাপ্তি এক নয়। কোনো দেশে শিক্ষাব্যবস্থা, কোথাও সরকারি ব্যয়সংকোচন, আবার কোথাও রাজনৈতিক অসন্তোষ মুখ্য ভূমিকা রাখছে। কয়েকটি দেশে একই সময়ে বিক্ষোভ হওয়া মানেই যে সব আন্দোলন একটি অভিন্ন পরিকল্পনার অংশ, তার প্রমাণ নেই।
ফরাসি বিপ্লবের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার দেশটির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রতিবাদের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। শ্রমিক ধর্মঘট, রাজপথের আন্দোলন এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ ফ্রান্সের রাজনৈতিক জীবনের পরিচিত অংশ। তবে আন্দোলনের ঐতিহ্য থাকলেও অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সমার্থক বলা যায় না।
ফ্রান্সের বিক্ষোভকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু সহিংসতার পেছনে উগ্র বামপন্থীদের ভূমিকার অভিযোগ তুলেছেন। উগ্র বামপন্থী দল লা ফ্রঁস আঁসুমিজের নেতা জঁ-লুক মেলঁশোঁর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক চলছে।
অন্যদিকে উগ্র ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালির নেতা মারিন লে পেন বলেছেন, উগ্র বামপন্থীরা বিক্ষোভকারীদের যৌক্তিক দাবিগুলোকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। তিনি সহিংসতার জন্য মেলঁশোঁকে দায়ী করেছেন।
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সব মানুষকে বামপন্থী, ডানপন্থী কিংবা অভিবাসী হিসেবে একক পরিচয়ে চিহ্নিত করলে সংকটের প্রকৃত কারণ আড়াল হতে পারে। অর্থনৈতিক অসন্তোষের সঙ্গে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা থাকতে পারে। আবার সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠীও গণবিক্ষোভের মধ্যে ভাঙচুর ও লুটপাট চালাতে পারে। তাই ফ্রান্সের সংকট বুঝতে হলে একদিকে নাগরিকদের অর্থনৈতিক অভিযোগ, অন্যদিকে সহিংসতার দায় ও রাজনৈতিক মেরুকরণ—দুই বিষয়ই পৃথকভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে।
অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার পাশাপাশি ইউরোপের সামনে রয়েছে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকি। ইউক্রেন যুদ্ধ মহাদেশটির নিরাপত্তা নীতিকে নতুন করে সাজাতে বাধ্য করেছে। প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, সামরিক প্রস্তুতি এবং জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগ বেড়েছে।
ব্রিটিশ সেনাপ্রধান জেনারেল স্যার রোলি ওয়াকার ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সতর্ক করেছিলেন, রাশিয়া, চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার সহযোগিতা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তিনি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং তিন বছরের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুতির কথা বলেন।
রাশিয়া ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। চীন সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে এবং তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে পূর্ব এশিয়ায় উত্তেজনা বজায় রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সংঘাতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতাও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এই দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়লে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়তে পারে। তবে তাদের মধ্যে সহযোগিতা রয়েছে বলেই তারা একটি একক পরিকল্পনার অধীনে বিশ্বযুদ্ধ শুরু করবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
আধুনিক সংঘাত শুধু সীমান্তে সেনা মোতায়েন কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাইবার হামলা, যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন, উপগ্রহনির্ভর অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থায় বাধা এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা একটি দেশের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করতে পারে।
এ ধরনের আক্রমণের প্রভাব পড়তে পারে হাসপাতাল, ব্যাংক, গণপরিবহন, খাদ্য সরবরাহ এবং জরুরি সেবায়। ইউরোপের দেশগুলো তাই সামরিক প্রতিরক্ষার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং নাগরিকদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
ইরান যুদ্ধ শুরু হলে ইন্টারনেট অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে—এমন দাবি করা হলেও নির্দিষ্ট বক্তব্য, নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং সম্ভাব্য হামলার ধরন যাচাই ছাড়া এটিকে নিশ্চিত পরিকল্পনা হিসেবে প্রকাশ করা উচিত নয়। ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করার সক্ষমতা এবং তা বাস্তবে ব্যবহারের সিদ্ধান্তও এক বিষয় নয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঋণের চাপ, সম্পদের বৈষম্য, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অনাস্থা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। এসব সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে সামাজিক আন্দোলন, সরকার পরিবর্তন কিংবা অর্থনৈতিক নীতির বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস ঘটতে পারে।
বিনিয়োগকারী রে ডালিওর সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন ও বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তনবিষয়ক বিশ্লেষণে ঋণ, সম্পদের বৈষম্য, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাঁর আলোচনায় দীর্ঘমেয়াদি ঋণচক্র ও বিশ্বশক্তির পরিবর্তনের ধারণা রয়েছে।
তবে এসব বিশ্লেষণ থেকে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে বিশ্বযুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ কিংবা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে—এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্ত টানা যায় না। ইতিহাসে আর্থিক সংকট কখনো রাজনৈতিক বিপ্লবের পথ তৈরি করেছে, আবার কখনো সংস্কার ও নতুন নীতির মাধ্যমে সংকট সামাল দেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সের বর্তমান পরিস্থিতিও সেই বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে আনছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সরকারি আয়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পেনশন এবং প্রতিরক্ষার ব্যয় কীভাবে সমন্বয় করা হবে? তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রেখে বয়স্ক নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা কীভাবে বজায় রাখা যাবে? রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের অসন্তোষের কার্যকর সমাধান দিতে পারবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ইউরোপের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের কয়েকটি দিক সামনে এনেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জনসেবার দুরবস্থা মানুষের ক্ষোভ বাড়াতে পারে। সরকারি ঋণের চাপ নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কঠিন করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ সৃষ্টি করছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, জনসেবার মান উন্নত করা এবং নাগরিকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা এবং সহিংসতার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।
ইউরোপের বর্তমান অস্থিরতা বিশ্বব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা বাড়াতে পারে। কিন্তু সেই পরিবর্তন বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে ঘটবে, নাকি অর্থনৈতিক সংস্কার, রাজনৈতিক সমঝোতা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির মাধ্যমে—তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বিশ্বযুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী কি না, তা নয়। বরং অর্থনৈতিক বৈষম্য, প্রজন্মগত অসন্তোষ এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে রাষ্ট্রগুলো কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে, সেটিই ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।