কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে স্ত্রী তানিয়া বেগমকে হত্যার দায়ে মো. আজাদ প্রকাশ ওরফে মো. আবুল আজাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৮ই আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আজাদ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের কবির মিয়ার ছেলে।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৬শে জুলাই দিবাগত রাত ১২টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে তানিয়া বেগমকে বৈদ্যুতিক শর্ট দিয়ে হত্যা করা হয়। মামলার তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার স্বামী আজাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়।
ঘটনার পরদিন তানিয়ার মা মায়া বেগম চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আজাদকে প্রধান আসামি করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও এক-দুজনকে আসামি করা হয়েছিল।
মামলাটির তদন্ত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদ হোসেন রায়হান। তদন্ত শেষে আজাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
মামলাটি বিচারপর্বে গেলে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। পরে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শোনেন আদালত।
আদালত মামলার নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণে, আজাদের বিরুদ্ধে আনা হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
এর ভিত্তিতে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। জরিমানা না দিলে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেছেন, হাইকোর্ট বিভাগে মৃত্যুদণ্ডের রায় নিশ্চিত হওয়ার পর আইন অনুযায়ী তা কার্যকর করা হবে। তবে আসামির আপিল করার সুযোগ রয়েছে। রায় ঘোষণার দিন থেকে সাত দিনের মধ্যে তিনি আপিল করতে পারবেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক সরকার বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালত রায় বহাল রেখে দ্রুত তা কার্যকরের ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া ও অ্যাডভোকেট মাহমুদা খানম শিল্পী উপস্থিত ছিলেন।