গ্রামীণ পরিবারের জ্বালানি চাহিদা পূরণ, পরিবেশদূষণ রোধ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে কাজ করছে সরকার। গবাদিপশুর গোবর, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য জৈব বর্জ্য কাজে লাগিয়ে জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি জৈব সার তৈরি করা সম্ভব। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক এসব কথা বলেছেন। বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণাফুলিয়ায় একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও বরিশাল যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে গ্রামীণ পরিবারগুলো নিজেদের জ্বালানির চাহিদা পূরণ করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে।
তিনি বলেন, বায়োগ্যাস উৎপাদনের ফলে জৈব বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। এতে পরিবেশদূষণ কমবে এবং জৈব সার উৎপাদনের সুযোগ বাড়বে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বরিশাল অঞ্চলে ইতোমধ্যে প্রায় ৮১টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে।
বায়োগ্যাস শুধু পরিবারের রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উৎপাদিত গ্যাসের উদ্বৃত্ত অংশ প্রতিবেশী বা আশপাশের পরিবারের কাছে সরবরাহ করেও আয় করা সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের উদ্যোগে পরিবারের জ্বালানি খরচ কমবে। পাশাপাশি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন ও পরিচালনার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবেন। গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এ কাজে যুক্ত হলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠানে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে আটজন উপকারভোগীর মধ্যে মোট ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। সবজি চাষ, মাছ চাষ, কুটিরশিল্প, পারিবারিক হাঁস-মুরগি পালন ও পোলট্রি খামারসহ বিভিন্ন খাতে এসব ঋণ দেওয়া হয়।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মোঃ মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক এ কে এম মফিজুল ইসলাম।
এ সময় বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ ফরিদা সুলতানা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণার্থী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরো পড়ুন : দুই বছরের মধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বায়োগ্যাস প্লান্ট ছড়ানোর পরিকল্পনা