সিলেটকে সবজি উৎপাদন ও রপ্তানির প্রধান কেন্দ্রে গড়তে সরকারের উদ্যোগ

সিলেট সদর উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে ভর্তুকিমূল্যে কৃষিযন্ত্র ও বিনা মূল্যে সেচযন্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

কৃষির আধুনিকায়ন, বছরজুড়ে পরিকল্পিত সবজি উৎপাদন এবং উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে সিলেটকে দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্রে পরিণত করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো, সেচ ও জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান এবং সিলেট বিমানবন্দর এলাকায় আধুনিক প্যাকেজিং কেন্দ্র ও হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব তথ্য জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭শে অক্টোবর) সিলেট সদর উপজেলা মিলনায়তনে কৃষকদের মধ্যে ভর্তুকিমূল্যে কৃষিযন্ত্র ও বিনা মূল্যে সেচযন্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বন্যা-পরবর্তী পুনর্গঠন ও জরুরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মধ্যে ট্রাক্টর ও নিম্নচাপের সেচযন্ত্র বিতরণ করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, সিলেটের কৃষিকে আধুনিক, উৎপাদনমুখী ও লাভজনক করতে সরকার কাজ করছে। পরিকল্পিতভাবে সবজি উৎপাদন এবং উন্নত প্যাকেজিং ও সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে এ অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের কাছে সিলেটের শাকসবজি পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিপণ্যের মান বজায় রাখা, যথাযথ মোড়কজাতকরণ, সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন।

এ লক্ষ্যেই সিলেট বিমানবন্দর এলাকায় প্যাকেজিং কেন্দ্র ও হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সিলেট সদর উপজেলার প্রতিটি কৃষিজমি সারা বছর চাষাবাদের আওতায় আনা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, কোথাও পানির অভাবে, আবার কোথাও জলাবদ্ধতার কারণে জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। এসব সমস্যা সমাধানে খাল খননসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে সেচের পানির প্রাপ্যতা বাড়বে এবং জলাবদ্ধতা কমবে। ফলে আরও বেশি জমি চাষের উপযোগী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়লে শারীরিক শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে কৃষিকাজ সহজ হবে এবং কৃষকের লাভের সুযোগ বাড়বে।

সিলেটের কোন এলাকায় কোন মৌসুমে কী ধরনের সবজি ভালো উৎপাদিত হয়, তা চিহ্নিত করে উৎপাদন পরিকল্পনা প্রণয়নের কথা জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, মৌসুমভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সারা বছর বাজারে সবজির সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

সরকারি ভর্তুকিতে পাওয়া কৃষিযন্ত্র যথাযথভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব যন্ত্র কৃষিকাজেই ব্যবহার করতে হবে। সরকারি সহায়তার অপব্যবহার রোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কৃষকদের চাহিদা ও সমন্বিত উদ্যোগের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে কৃষিযন্ত্র সরবরাহের সুযোগ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সিলেটের কৃষি ও সামগ্রিক উন্নয়নে আগামী পাঁচ বছরে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ জন্য কৃষক, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাপলুসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

এর আগে মন্ত্রী সিলেট সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বৈদ্যুতিক ও আরও পদ্ধতির পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র বিতরণ করেন।

 

 

আরো পড়ুন : হবিগঞ্জে স্কুলভিত্তিক কৃষি শিক্ষা জোরদার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *