আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে যাবে বাংলাদেশ জলবায়ু ও পরিবেশ অলিম্পিয়াডের বিজয়ীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রথম বাংলাদেশ জাতীয় জলবায়ু ও পরিবেশ অলিম্পিয়াড (বিওসিই) ২০২৬। শুক্রবার (২১শে আগস্ট) অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্বে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৩০০জন তরুণ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও আগ্রহ যাচাইয়ের লক্ষ্যেই এই অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়। জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতা থেকেই আন্তর্জাতিক জলবায়ু ও পরিবেশ অলিম্পিয়াড (আইওসিই)-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়েছে।

আয়োজক বাংলাদেশ অলিম্পিয়াড অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইস্যুস (বিওসিই)। উদ্যোগটিতে সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছে রাশিয়ান হাউস ঢাকা। প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদার হিসেবে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

আয়োজকরা জানান, জাতীয় পর্বের নির্বাচিত বিজয়ীরা রাশিয়ার সিভিয়াস আন্তর্জাতিক শিক্ষাকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু ও পরিবেশ অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (শিক্ষা) ড. আব্দুস সালাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ান হাউস ঢাকার পরিচালক অ্যালেক্সান্দ্রা খলেভনায়া।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্যে অ্যালেক্সান্দ্রা খলেভনায়া রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে রাশিয়ান সরকারের স্কলারশিপের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি শিক্ষার্থীদের অবহিত করেন।

তিনি জানান, জাতীয় অলিম্পিয়াডের বিজয়ীরা রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য রাশিয়ান হাউসের স্কলারশিপ বাছাই প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে অলিম্পিয়াডে ভালো ফলাফল শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

আয়োজকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ নিয়ে ভাবতে এবং গবেষণামুখী হতে উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

রাশিয়ান হাউস ঢাকা বলছে, তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হওয়াকে তারা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার একটি ইতিবাচক ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে।

প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই জাতীয় অলিম্পিয়াড তাই শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়। এটি বাংলাদেশের তরুণদের জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক জ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত করার একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও সামনে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *