বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানিতে সহযোগিতা বাড়াতে আলজেরিয়ার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
১৯শে অক্টোবর আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং আলজেরিয়ার হাইড্রোকার্বন বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আরকাব নিজ নিজ দেশের পক্ষে এতে সই করেন।
বৈঠকে দুই দেশের জ্বালানি খাতের সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস আমদানি, জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাংলাদেশে তেল, গ্যাস ও কয়লা অনুসন্ধান।
বাংলাদেশের জ্বালানিমন্ত্রী আলজেরিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। তিনি জ্বালানি খাতে আলজেরিয়ার অভিজ্ঞতা ও কারিগরি জ্ঞান কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের মন্ত্রী। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। সরকারি পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে আফ্রিকার বিকল্প উৎস থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে একই দিনে আলজেরিয়ার খনি ও খনিজ শিল্পবিষয়ক মন্ত্রী মুরাদ হানাফি এবং জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী মুরাদ আদজাল বাংলাদেশের জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
বৈঠকগুলোতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, সার এবং জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে তাঁরা মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি দুই দেশের সাংস্কৃতিক সাদৃশ্যের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
এর আগে ১৯শে অক্টোবর আলজেরিয়ার হৌয়ারি বুমেদিয়েন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জ্বালানিমন্ত্রীকে স্বাগত জানান আলজেরিয়ার হাইড্রোকার্বনবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আরকাব।
আলজেরিয়ার সঙ্গে এই সমঝোতা বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখী করার একটি সম্ভাব্য উদ্যোগ। বিশেষ করে সরকারি পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে উঠলে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প উৎস তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে।
তবে সমঝোতার আওতায় কত পরিমাণ জ্বালানি আমদানি হবে, সরবরাহের সময়সূচি কী হবে এবং মূল্য নির্ধারণের শর্ত কী থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যয়ের ওপর এই উদ্যোগের প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে পরবর্তী চুক্তি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর।
আরো পড়ুন : চীনের খুনমিংয়ে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ শুরু