চীনের ইয়ুননান প্রদেশের খুনমিংয়ে বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ই অক্টোবর) সকালে ইয়ুননান প্রশাসন একাডেমিতে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ১৬ই অক্টোবর প্রশিক্ষণ শেষ হবে।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইয়ুননান প্রাদেশিক কমিটির দলীয় বিদ্যালয় পরিচালিত এ কর্মসূচির আয়োজন করেছে ইয়ুননান প্রাদেশিক সরকারের বৈদেশিক বিষয়ক কার্যালয়। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ১৫ জন কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইয়ুননান প্রাদেশিক সরকারের বৈদেশিক বিষয়ক কার্যালয়ের উপমহাপরিচালক মা চুওশিন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মুহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরীও বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন ইয়ুননান প্রাদেশিক কমিটির দলীয় বিদ্যালয়ের সহসভাপতি ছি ইউয়ানলিং এবং খুনমিংয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শাহনাজ আখতার রানু।
প্রশিক্ষণে চীনের আধুনিকায়ন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হবে। গুরুত্ব পাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন, আধুনিক কৃষি, প্রযুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণ। জনসেবা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হবে।
কর্মসূচিতে ইয়ুননান প্রদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও উন্নয়নের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করবেন বাংলাদেশি কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন তালিকায় রয়েছে ইয়ুননান বাইয়াও গোষ্ঠী, আধুনিক কৃষিশিল্প উদ্যান, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং শিল্প উদ্যান। এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব নগর উন্নয়ন প্রকল্প, প্রবীণদের সেবাকেন্দ্র ও চায়না মোবাইলের ইয়ুননান তথ্যকেন্দ্র পরিদর্শনের আয়োজন রয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও নগরায়ণ সম্পর্কে সরেজমিনে জানার সুযোগও থাকছে। শিল্পায়নের সঙ্গে নগর উন্নয়নের সমন্বয় কীভাবে করা হচ্ছে, তা-ও পর্যবেক্ষণ করবেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও জনপ্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য রচয়িতা এস এ এম মাহফুজুর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিশেষ মহানগর হাকিম সাতিয়া মুনতাহা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ড. কে এম আলমগীর কবির ও সায়মা আক্তার।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আনিসুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. জিয়াউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো. আরিফুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ সহকারীর একান্ত সচিব প্রবীর কুমার রায় এবং প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবের একান্ত সচিব আবরার ফাইয়াজ।
এ ছাড়া রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী সামরিক কর্মকর্তা সৈয়দ নাজমুল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রোগ্রামার নূরে আলম সিদ্দিকী, অ্যাসাইনমেন্ট কর্মকর্তা মো. মোবাইদুল ইসলাম মুকুল, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব মীর সোলাইমান এবং সহকারী প্রেস সচিব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার পামির।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে চীনের প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনসেবা ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হবে। আলোচনা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে ইয়ুননান প্রদেশের অর্জন এবং উন্নয়ন উদ্যোগ সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাবেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।
আরো পড়ুন : ফ্রান্সের সঙ্গে পাহাড়ের উন্নয়ন ও মানবাধিকার নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ