বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাঙ্গনে ‘হানিম্যান’ নামে পরিচিত প্রফেসর ডা. বদরুল আলমের জীবন, কর্ম ও রচনাসমগ্র শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে। তাঁর স্মরণে আয়োজিত এক অনলাইন অনুষ্ঠানে বক্তারা এ দাবি জানান।
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডা. বদরুন নাহার ফেরদৌসী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. মআআ মুক্তাদীর। এতে অনলাইনে যুক্ত হন বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ আক্তারুন নাহার আলো, ডা. শাহিন চৌধুরী, ডা. রোকসানা বেগম সীমা, ডা. হাবিবুর রহমান, ডা. সাইফুল ইসলাম ডিজু, ডা. দেলোয়ার হোসেন, ডা. নিমাই বর্মন, ডা. বদরুল আলমের ছেলে মাহবুব আলম ও ফারজানা রাখিসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠানে ডা. বদরুল আলমের কর্মজীবন ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রসারে তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, স্যামুয়েল হানিম্যানের চিকিৎসাদর্শ অনুসরণ করে ডা. বদরুল আলম বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বহু মানুষকে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন বলেও অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, চিকিৎসাব্যবস্থার বিকাশে যাঁরা দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, তাঁদের জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। সে বিবেচনায় ডা. বদরুল আলমের জীবন, কর্ম ও প্রকাশিত রচনাগুলো সংরক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
তাঁরা হোমিওপ্যাথি শিক্ষার পাঠ্যক্রমে ডা. বদরুল আলমের জীবনী ও রচনাসমগ্র অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। তাঁদের মতে, এতে বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার ইতিহাস, বিকাশ এবং এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবদান সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা ধারণা পাওয়ার সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানে ডা. বদরুল আলমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা হাবিবুল রহমান।
তবে ডা. বদরুল আলমের কর্মজীবন, প্রকাশিত রচনা, চিকিৎসা-সংগঠন ও হোমিওপ্যাথি শিক্ষায় তাঁর নির্দিষ্ট অবদানের পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই ও নথিভুক্ত করা জরুরি। বিশেষ করে তাঁর রচনাসমগ্র ও পেশাগত কর্মকাণ্ডের নির্ভরযোগ্য দলিল সংরক্ষিত হলে বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার ইতিহাস নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে।