দেবীদ্বারে দিনমজুর হত্যা: ১৫ বছর পর আরেক দিনমজুরের যাবজ্জীবন

দিনমজুর হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মজিদের আইনজীবি

কুমিল্লার দেবীদ্বারে দিনমজুর মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলায় আব্দুল মজিদ নামের আরেক দিনমজুরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে তাঁকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে কুমিল্লার পারিবারিক আপিল আদালত ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাউদ হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মজিদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মজিদ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাঠালিয়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে। নিহত মোশাররফ হোসেনের বাড়ি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম সেকান্দর বাদশা।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৮ নভেম্বর কৃষিকাজের জন্য ১৫ থেকে ২০ দিনের চুক্তিতে মোশাররফ ও মজিদকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন দেবীদ্বারের নবীয়াবাদ এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা কামাল। তিনি আঃ মালেকের ছেলে।

এর তিন দিন পর, ২১ নভেম্বর সকালে মোশাররফ ও মজিদ দুটি কোদাল নিয়ে নবীয়াবাদ বিলের একটি টমেটোখেতে কাজ করতে যান। পরে মোস্তফা কামাল লোকমুখে জানতে পারেন, মোশাররফের মাথা ও মুখে গুরুতর রক্তাক্ত জখমসহ তাঁর মরদেহ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে মজিদকে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. আবু জাহের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আব্দুল মজিদকে গ্রেপ্তার করেন। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মজিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি মামলাটি কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ তৃতীয় আদালতে বিচারের জন্য পাঠানো হয় এবং আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য কুমিল্লার পারিবারিক আপিল আদালত ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দি, জেরা এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত মনে করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর ভিত্তিতে আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা মুক্তি বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট রৌশন আরা বেগম (স্বপ্না)।

 

 

আরো পড়ুন: দেবীদ্বারে মা ও ভাতিজি হত্যা: আদালতে ইমনের স্বীকারোক্তি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *