সরকারি জমি বরাদ্দে স্বচ্ছতা ও কৃষিজমি সুরক্ষায় ভূমিমন্ত্রীর নির্দেশ

কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৫৭তম সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু

সরকারি জমি বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, সরকারি স্বার্থ সংরক্ষণ এবং ভূমির সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।

বৃহস্পতিবার (১০ই সেপ্টেম্বর) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৫৭তম সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে জনগণের মধ্যে যাতে কোনো অসন্তোষ তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এবং কৃষিজমি সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।

সভায় কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির পূর্বানুমোদনের জন্য আসা কয়েকটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে পাঁচলাইশ, পশ্চিম ষোলশহর, চন্দনপুরা, ইমামগঞ্জ, পাথরঘাটা, বাকলিয়া ও পূর্ব ষোলশহর মৌজায় মোট ৪.১৩০৫২ একর ভূমি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের একটি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পেও ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় এ প্রকল্পের জন্য মোট ৩১.৭০৮০ একর ভূমি প্রস্তাব করা হয়।

এ ছাড়া নেত্রকোণা জেলার সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা ও গন্ধর্বপুর মৌজায় ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের জন্য ০.০৭৫০ একর ভূমির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায়ও দুটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব সভায় অনুমোদন পায়। নাজমা পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেডের জন্য ০.৩৭ একর ভূমি অধিগ্রহণের পূর্বানুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই উপজেলায় মেঘনা ইকোনমিক জোন লিমিটেডের অনুকূলে ১.৮৬৫২ একর ভূমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভায় জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সুপারিশ করা ৫০ বিঘার বেশি জমি অধিগ্রহণের কয়েকটি প্রস্তাবও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য চরশালগ্রাম, কুমারিয়াবাড়ী ও মাজনাবাড়ী মৌজায় মোট ২৯.৮৫২৫ একর ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবে মাজনাবাড়ী মৌজার একটি অংশের জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পে ২১টি মৌজায় ২০.০১৩৬ একর ভূমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের মিরসরাই ও ফটিকছড়িতে বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের জন্য ৫৭.৯৩৮০ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে যশোর রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা প্রকল্পে অভয়নগরের ছয়টি মৌজায় ৬.৪৭৬০ একর জমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বগুড়া কোল্ড স্টোরেজ অ্যান্ড এলাইড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের অনুকূলে আগে অধিগ্রহণ করা একটি সম্পত্তির ব্যবহার পরিবর্তনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় ভূমি অধিগ্রহণ আইন, ২০১৭-এর আওতায় জনকল্যাণমূলক হাসপাতাল স্থাপনের কাজে সম্পত্তিটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

সভায় অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোতে সড়ক, রেল, বিদ্যুৎ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও শিল্প অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি ব্যবহারের বিষয় উঠে আসে। এসব ক্ষেত্রে সরকারি স্বার্থের পাশাপাশি পরিবেশ ও কৃষিজমি সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *