মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের ৩৩০টির বেশি অভিযোগের সমাধান

পেনাংয়ে আন্তর্জাতিক প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মত শাহানারা মনিকা।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের বেতন, ভিসা ও অন্যান্য জটিলতা নিয়ে পাওয়া প্রায় ৪৫০টি অভিযোগের মধ্যে ৩৩০টির বেশি অভিযোগের সমাধান হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। কর্মী, নিয়োগকর্তা, মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।

৮ই সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে রেসপনসিবল বিজনেস অ্যালায়েন্স (আরবিএ) আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক প্যানেল আলোচনায় এ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মত শাহানারা মনিকা।

“ফ্রম কমিটমেন্ট টু অ্যাকশন: বেস্ট প্র্যাকটিসেস অব হিউম্যান রাইটস ডিউ ডিলিজেন্স অ্যাক্রস সাপ্লাই চেইন” শীর্ষক ওই আলোচনায় তিনি বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের মুখোমুখি হওয়া সমস্যাগুলো তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, অনেক কর্মী নিয়োগ-সংক্রান্ত ঋণের বোঝা নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসেন। সেখানে এসে কেউ বেতন না পাওয়া, ভিসা ও অভিবাসন-সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েন। আবার কোনো কোনো কর্মী দেশে ফেরত পাঠানোর পরও বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হন।

২০২২ সালে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৪৫০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে বকেয়া বেতন, ভিসা নবায়ন এবং কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত নানা সমস্যা ছিল।

হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ৩৩০টির বেশি অভিযোগের সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। কর্মী ও নিয়োগকর্তার মধ্যে মধ্যস্থতা করা হয়েছে। প্রয়োজনে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে।

প্যানেল আলোচনায় ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মত শাহানারা মনিকা বলেন, প্রবাসী কর্মীদের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ হাইকমিশন শুধু অভিযোগ গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার নিশ্চিত করা, কল্যাণমূলক সহায়তা দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে মর্যাদাপূর্ণভাবে কর্মীদের দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রেও হাইকমিশন কাজ করছে।

তিনি বিশেষভাবে অভিবাসী কর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। কারণ নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে কর্মস্থল এবং দেশে ফেরার পর পর্যন্ত একজন অভিবাসী কর্মী নানা ধরনের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন।

পেনাংয়ের এই আলোচনায় সরবরাহব্যবস্থায় মানবাধিকার সুরক্ষা এবং মানবাধিকারবিষয়ক যথাযথ সতর্কতা বা হিউম্যান রাইটস ডিউ ডিলিজেন্স বাস্তবায়নের বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বাংলাদেশ হাইকমিশন অভিবাসী কর্মীদের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অংশীজনভিত্তিক সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে।

বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। ফলে নিয়োগ ব্যয়, কর্মপরিবেশ, বেতন, ভিসা এবং দেশে প্রত্যাবাসনের মতো বিষয়গুলো তাদের অধিকার ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এই প্রেক্ষাপটে হাইকমিশনের তথ্য বলছে, অভিযোগ সমাধানে কর্মী, নিয়োগকর্তা এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *