বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে আরও টেকসই ও কম কার্বননির্ভর করতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে শিল্প, সরকার, উন্নয়ন সহযোগী ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন পক্ষ। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ঢাকায় একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও নেটওয়ার্কিং আয়োজন হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকায় সুইডেন দূতাবাসের আয়োজনে ‘শেপিং দ্য ফিউচার অফ সাসটেইনেবল অ্যাপারেল ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি নেটওয়ার্কিং রিসেপশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প, জ্বালানি খাত ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সুইডেনের উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান সুইডফান্ড-সহ ‘টিম সুইডেন’-এর বিভিন্ন অংশীদারও এতে উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজনে বাংলাদেশের পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে উৎপাদন ব্যবস্থায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
এর ধারাবাহিকতায় পরদিন ‘এডভান্সিং ডিকার্বোনাইজেশন ফর অ্যাপারেল ইন এ চেঞ্জিং এনার্জি ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এইচএসবিসি বাংলাদেশ, অ্যাপারেল ইমপ্যাক্ট ইন্সটিটিউট, সুইডেন দূতাবাস ও বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
বৈঠকে পোশাকশিল্পের ডিকার্বনাইজেশন বা কার্বন নিঃসরণ কমানোর পথ নিয়ে আলোচনা হয়। পরিবর্তনশীল জ্বালানি পরিস্থিতির মধ্যে শিল্পকারখানায় পরিচ্ছন্ন ও দক্ষ জ্বালানি ব্যবস্থার প্রসার কীভাবে ঘটানো যায়, সেটিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। এই খাত দেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে পোশাক উৎপাদন আন্তর্জাতিকভাবে কার্বন নিঃসরণ ও জ্বালানি ব্যবহারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
বিশ্বের বড় ব্র্যান্ড ও ক্রেতারা এখন সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবেশগত স্থায়িত্বকে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর জন্য শুধু উৎপাদন সক্ষমতা নয়, জ্বালানি দক্ষতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এই বাস্তবতায় শিল্প ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন এবং নীতিগত সহায়তাও এ পরিবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সুইডেন দূতাবাসের আয়োজিত দুটি অনুষ্ঠানে শিল্প, অর্থায়ন, উন্নয়ন সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অংশগ্রহণ সেই সমন্বিত উদ্যোগেরই ইঙ্গিত দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়লে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি একটি কম কার্বননির্ভর উৎপাদন কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।