ডেনমার্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও শিল্প সহযোগিতা আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগ এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেছে ডেনমার্কের শিপিং ও বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মায়ের্স্ক গ্রুপ ও এপিএম টার্মিনালসের একটি প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও শিল্প সম্পর্কের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো ও বৈশ্বিক বাণিজ্য সংযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পে মায়ের্স্ক গ্রুপ ও এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগকে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে ডেনমার্কের মায়ের্স্ক/এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রবাহের সঙ্গে দেশের সংযোগ আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
মায়ের্স্ক বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান। এপিএম টার্মিনালস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্দর ও কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করে। বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ দেশের বন্দর খাতে আন্তর্জাতিক বেসরকারি অংশীদারত্বের গুরুত্বও তুলে ধরছে।
ডেনমার্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ীদের সরাসরি মতামত নেওয়া কার্যকর বাণিজ্যিক পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ। এতে বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো সম্পর্কে সরকার সরাসরি ধারণা পেতে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়।
বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক, জাহাজ চলাচল, বন্দর, লজিস্টিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
লালদিয়া টার্মিনাল প্রকল্পের মতো বড় অবকাঠামো বিনিয়োগ বাংলাদেশের বৈশ্বিক বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ডেনমার্কের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের নতুন ভিত্তি তৈরি করতে পারে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশ টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।