শিক্ষা, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, টেক্সটাইল, ফ্যাশন ও শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ঢাকায় বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) কার্যালয়ে চীনের চেচিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির (জেডএসটিইউ) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিসিসিসিআই।
শনিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে জেডএসটিইউর ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিসিসিসিআই।
চীনা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জেডএসটিইউর স্কুল অব ফ্যাশন, ডিজাইন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভাইস ডিন অধ্যাপক সু ছিউছেই। প্রতিনিধি দলে টেক্সটাইল, ফ্যাশন ডিজাইন, প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের অধ্যাপক এবং একাডেমিক পেশাজীবীরা ছিলেন।
বৈঠকে অধ্যাপক সু ছিউছেই ফ্যাশন ও টেক্সটাইল প্রযুক্তিতে চীনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের শিক্ষা ও শিল্প খাতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
জেডএসটিইউর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা, কারিগরি জ্ঞান বিনিময় এবং শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চীনে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা এবং বাস্তব শিল্প-অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।
বিসিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম চীনা প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও টেক্সটাইল খাতের সঙ্গে চীনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ তৈরিতে বিসিসিসিআই কাজ করছে।
তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনের বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির ওপর জোর দেন।
আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানো, টেক্সটাইল ও ফ্যাশন খাতে যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি জ্ঞান বিনিময়ের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। আন্তর্জাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতা দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই খাতে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, দক্ষ জনশক্তির চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকের মাধ্যমে শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং শিল্পের বাস্তব চাহিদার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।