সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় প্রথম ফিফা আসিয়ান কাপ-এ অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ফিফা। আমন্ত্রণ পাওয়ার পর টুর্নামেন্টটিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
ফিফার নতুন এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে টুর্নামেন্টের অংশগ্রহণকারী তালিকায় পরিবর্তনের পর। ভারত সম্প্রতি ফিফা আসিয়ান কাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের সঙ্গে সূচি সংঘাতের কারণে ভারতের এই সিদ্ধান্ত।
ভারত ছিল টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ আমন্ত্রিত দলগুলোর একটি। তাদের নাম প্রত্যাহারের ফলে প্রতিযোগিতায় একটি জায়গা খালি হয়েছে। বাংলাদেশকে সেই জায়গায় বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ফিফা আসিয়ান কাপ এবারই প্রথম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফিফা কাউন্সিল গত মার্চে প্রতিযোগিতাটি অনুমোদন করে। প্রথম আসর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।
পরবর্তীতে টুর্নামেন্টের সূচি ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর করা হয়েছে। প্রতিযোগিতাটি দুটি বিভাগে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত ড্র অনুযায়ী প্রথম বিভাগে ছিল ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও পাকিস্তান।
চীন আগে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এবার ভারতের সরে দাঁড়ানোর পর আবারও একটি দলের জায়গা খালি হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এই আমন্ত্রণটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ফিফা আসিয়ান কাপ অনুষ্ঠিত হবে ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে। ফলে জাতীয় দলের বিদেশি ক্লাবের খেলোয়াড়দের পাওয়ার সুযোগ থাকবে। এটি বাংলাদেশের জন্য শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার বড় সুযোগ হতে পারে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ফুটবলে প্রবাসী ও দ্বৈত নাগরিকত্বের খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে যুক্ত করার প্রবণতা বেড়েছে। ফিফা উইন্ডোর ম্যাচ হওয়ায় এ ধরনের খেলোয়াড়দের পাওয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে।
এ ছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনামূলক শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রস্তুতিতেও কাজে আসতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোর পর আরও একটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা রয়েছে। ২০২৬ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশীপ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতাটি ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় হওয়ার কথা।
ভারতের Fফিফা আসিয়ান কাপ-এ অংশগ্রহণের কারণে সাফ চ্যাম্পিয়নশীপ -এর সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছিল। আগে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও পরে নভেম্বরের সূচি নির্ধারণ করা হয়।
ফলে ফিফা আসিয়ান কাপ-এ অংশ নিতে পারলে বাংলাদেশের জাতীয় দলের সামনে পরপর দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ফিফা বা বাফুফের প্রকাশ্য চূড়ান্ত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। আমন্ত্রণ গ্রহণ, অংশগ্রহণকারী দলের পুনর্বিন্যাস এবং সূচি—এসব বিষয়ে ফিফার পরবর্তী সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
ভারতের জায়গায় বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত খেলতে পারলে এটি বাংলাদেশের জাতীয় দলের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের একটি বিরল সুযোগ হবে।