শ্রাবণের শেষ বিকেলকে বিদায় জানিয়ে ঢাকার পূর্বাঞ্চলের গুণী ও নিভৃতচারী সাংস্কৃতিক শিল্পীদের সম্মাননা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলার ঋতুবরণ পরিষদের আয়োজনে শুক্রবার (১৪ই আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর নন্দীপাড়া আইডিয়াল হাই স্কুল অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‘শ্রাবণের গোধুলি’ শিরোনামের এ আয়োজনে বিকেল ৫টায় ঢাকা পূর্বাঞ্চল কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা জড়ো হন। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শ্রাবণকে বিদায় জানিয়ে ঋতুচক্রে শরতের আগমনকে স্বাগত জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. এস এম আফসারুজ্জামান এফআরইএস। স্বাগত বক্তব্য দেন সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক মারুফ আহমেদ।
তিনি বলেন, অপসংস্কৃতি ও কিশোর অপরাধের এই সময়ে বাংলার ঋতুবরণ পরিষদের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক শিল্পীদের একত্রিত করার আয়োজনটি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর প্রত্যাশা, শ্রাবণের মতো বাংলার প্রতিটি ঋতুর নিজস্ব রং ও বৈশিষ্ট্য সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়ে বিকশিত হবে এবং শিল্পীরা শেকড়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও গভীর করবেন।
আয়োজকেরা জানান, ২০২০ সাল থেকে বাংলার ঋতুবরণ পরিষদ ঢাকা পূর্বাঞ্চলের গুণী শিল্পীদের সম্মাননা দিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত সাতজন শিল্পীকে পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এবার পূর্বাঞ্চলের ৩০ জন নিভৃতচারী ও গুণী শিল্পীকে শুভেচ্ছা স্মারক ও সম্মাননা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বাংলার ছয় ঋতুর প্রতীকী উপহার হিসেবে উপস্থিত শিল্পীদের সংগঠনের ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়। শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন ‘শ্রাবণের গোধুলি’র প্রধান আয়োজক ও বাংলার ঋতুবরণ পরিষদের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এ আর এম জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জি এম কামরুল হুদা লাবলু, খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, খোরশেদ আলম, আল আমিন সেলিম, অভিনেতা এম এইচ টি আলী নিউটন ও হামজা আনোয়ারসহ অনেকে।
সমাপনী বক্তব্যে ফয়সাল আহমেদ অনুষ্ঠানের আয়োজন ও পৃষ্ঠপোষকতায় সহযোগিতার জন্য উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষভাবে নন্দীপাড়া আইডিয়াল হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল খোরশেদ আলম এবং কবি ও লেখক এ আর এম জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
ফয়সাল আহমেদ বলেন, ঢাকার পূর্বাঞ্চলের গুণী শিল্পীদের এমন মিলনমেলা প্রতিবছর অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা রয়েছে। ঋতুভিত্তিক সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে শিল্পীদের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক মেলবন্ধন আরও শক্তিশালী করার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ছিল কবিতা আবৃত্তি, স্বরচিত কবিতা পাঠ, গান ও জাদু প্রদর্শনী। খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম গান পরিবেশন করেন। জি এম কামরুল হুদা লাবলু জাদু প্রদর্শনের পাশাপাশি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা পূর্বাঞ্চলের নাট্যঅভিনেতা জসিম উদ্দিন।
শ্রাবণের শেষ বিকেলের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন গুণী শিল্পীদের সম্মান জানানো হয়েছে, অন্যদিকে ঋতুভিত্তিক বাঙালি সংস্কৃতির চর্চাকে ঘিরে শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের একটি মিলনমেলাও তৈরি হয়েছে।