দলীয় ফুটবলের দুর্দান্ত প্রদর্শনীতে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছে তারা। পুরো ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের খেলায় ছিল গতি, আগ্রাসন এবং সংগঠিত পরিকল্পনার ছাপ।
ম্যাচে চারটি গোল করলেও কোনো একক খেলোয়াড় আলাদা করে আলো ছড়াননি। বরং দলীয় সমন্বয়ই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি। মাঠজুড়ে একে অন্যকে সহায়তা করে খেলেছেন মার্কিন ফুটবলাররা। আক্রমণ থেকে মাঝমাঠ, সব জায়গায় দেখা গেছে সমন্বিত প্রচেষ্টা।
কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনোর কৌশলের প্রভাবও স্পষ্ট ছিল ম্যাচজুড়ে। উচ্চমাত্রার প্রেসিং এবং ঘন ঘন পজিশন পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ধরনের ফুটবল খেলতে প্রচুর শারীরিক সক্ষমতা ও শক্তির প্রয়োজন হয়। মার্কিন খেলোয়াড়রা সেই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করেছেন।
অন্যদিকে প্যারাগুয়ে শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় এনার্জিতে পিছিয়ে ছিল। খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতিও চোখে পড়েছে। দলের অন্যতম ভরসা মিগেল আলমিরনও কার্যকরভাবে জায়গা তৈরি করতে পারেননি। ফলে আক্রমণভাগে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
তবে বড় জয় পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে। ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করলেও কয়েকটি মুহূর্তে তাদের ডিফেন্সকে অস্বস্তিতে দেখা গেছে। বিশেষ করে গতিময় আক্রমণ এবং বাই লাইন থেকে ক্রস করতে দক্ষ দলের বিপক্ষে এই রক্ষণভাগ আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।
বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র দলে ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা একাধিক তারকা রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক, জিও রেইনা, টিমোথি উইয়াহ, মালিক টিলম্যান, ফলারিন বালোগুন এবং ওয়েস্টন ম্যাককেনি। তবে এই ম্যাচে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় ফুটবলকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন পচেত্তিনো। তার পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র একটি সংগঠিত ইউনিট হিসেবে খেলেছে।
সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টে যুক্তরাষ্ট্রের এটি ছিল আত্মবিশ্বাসী সূচনা। দলীয় সমন্বয়, উচ্চ গতি এবং কার্যকর আক্রমণ তাদের শক্তির জায়গা হিসেবে সামনে এসেছে। কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এই জয় যুক্তরাষ্ট্রকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।