সিঙ্গাপুরের সহযোগিতায় বিমান ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশের বিমান ও পর্যটন খাতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দর সেবার আধুনিকায়ন, যাত্রী তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটন খাতে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

সোমবার (১৮ই মে) দুপুর ২টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রদূত ডেরেক লো ইউৎসে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর-এর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে বিমান ও পর্যটন খাতে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং দক্ষতা বিনিময়ের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত জানান, সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্রিমসন এবং এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশের বিমানবন্দর সেবার আধুনিকায়নে আগ্রহী। তারা এডভান্সড প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম  (এপিআইএস ) এবং এরনটিক্যাল রেভেন্যু ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উন্নয়নে কাজ করতে চায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব প্রযুক্তি চালু হলে যাত্রী তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের আয় ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে।

মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, দেশের বিমান খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে পর্যটন খাত নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। পর্যটন সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণ এবং সেবার মান বাড়াতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম সফল বিমান ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা মডেল হিসেবে সিঙ্গাপুর-এর অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে স্মার্ট এয়ারপোর্ট ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল যাত্রীসেবা এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন বিপণনে সহযোগিতা বাড়লে দেশের এ খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *