‘অভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষায় উপযোগী দল গড়তে হবে’: রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং নতুন বাংলাদেশের জন্য টেকসই রাজনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত করতে ‘অভ্যুত্থান রক্ষার উপযোগী দল’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।

সংগঠনটির পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (৭ই  আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর তোপখানা রোডে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে নেতারা এ অঙ্গীকারের কথা জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ছাত্র-জনতা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছে। তবে এসব আন্দোলনের অর্জন ধরে রাখার মতো সুসংগঠিত ও শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামোর অভাব ছিল। এ কারণে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অর্জিত সাফল্য পরবর্তী সময়ে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি বলে মনে করেন তারা।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা বলেন, অতীতে গণঅভ্যুত্থান সফল হলেও তার ফল জনগণের হাতে স্থায়ীভাবে তুলে দেওয়ার মতো রাজনৈতিক শক্তি গড়ে ওঠেনি। ফলে পুরোনো রাজনৈতিক ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক কাঠামো নতুন রূপে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছে।

তাদের ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের পর রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার রূপান্তর নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংগঠনটির নেতারা জানান, প্রতিষ্ঠার প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করাকে তারা অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী থেকে সংগঠনটি সেই অবস্থান থেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে চায়।

তারা বলেন, শুধু সংস্কারের দাবি তোলা যথেষ্ট নয়; সংস্কারের রাজনীতিকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন কার্যকর রাজনৈতিক সংগঠন। সেই লক্ষ্যেই তারা এমন একটি রাজনৈতিক দল গড়ে তুলতে চান, যা গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে রক্ষা করতে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সক্ষম হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম।

সুধী সমাবেশে সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, বিশিষ্ট নাগরিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নতুন রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

বক্তারা একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের অর্জন বাস্তবায়নে রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি নীতি নির্ধারণী পর্যায়েও সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সংগঠনটির সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো রাষ্ট্র সংস্কারের রাজনৈতিক ধারণাকে একটি কার্যকর সাংগঠনিক শক্তিতে রূপ দেওয়া এবং সেই শক্তির মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পরিবর্তনে পরিণত করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *